নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় আড়াইশ বছরের বিচারিক ঐতিহ্যের সাক্ষী যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সেই ঐতিহ্যবাহী আদালত ভবনের সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে এবার ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের অর্থে পুরাতন আদালত ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং তিনটি এজলাস কক্ষ পুনর্র্নিমাণ করা হবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এ বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরাতন ভবনটির ঐতিহ্য ও স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার এবং বিচারিক কার্যক্রমের পরিবেশ উন্নয়নই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। যশোরের বিচার বিভাগের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭৮১ সালে যশোরে ব্রিটিশ প্রশাসনের সময় আদালত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়। সে সময় মুড়লীতে স্থাপিত আদালতের আওতায় ছিল বিস্তীর্ণ এলাকা। পরবর্তীতে আদালত মুড়লী থেকে শহরের পুরাতনকসবায় স্থানান্তরিত হয়। যশোরকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই বিচারিক সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশ-তিন পর্বের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যশোরের আদালত বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচারের আশ্রয়স্থল হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। জেলা বিচার বিভাগের সরকারি ইতিহাসেও যশোরকে ব্রিটিশ শাসনামলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে তিনতলা মূল ভবনের পাশাপাশি পুকুরপাড়ের একতলা ভবন, পুরাতন জজকোর্ট ভবন ও নেজারত বিভাগের বিভিন্ন স্থাপনায় বিচারিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে পুরাতন আদালত ভবন সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ উদ্যোগের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এক বার্তায় তিনি যশোরের উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বৃহত্তর যশোরের কৃতী সন্তান আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আইনজীবীরা ঐতিহ্যবাহী পুরাতন আদালত ভবন সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান যশোর সফরে এলে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ভবনটির সংস্কারের বিষয়টি তার কাছে তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে—এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংস্কার ও পুন:নির্মাণের কাজ শেষ হলে পুরাতন ভবনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমের পরিবেশও উন্নত হবে। একই সঙ্গে যশোরের প্রায় আড়াইশ বছরের বিচারিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি নতুন প্রজন্মের কাছেও সংরক্ষিত থাকবে। যশোরের আদালতের ইতিহাস শুধু একটি বিচারালয়ের ইতিহাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ অঞ্চলের প্রশাসন, আইন ও বিচারব্যবস্থার দীর্ঘ বিবর্তনের স্মৃতি। তাই ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার এই সংস্কার উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, যশোরের বিচারিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।