নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠার বার্ষিকীতে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা পর্দার অন্তরালে এক হচ্ছে। তাই আমরা যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে করে কোন সুপ্ত কিংবা গুপ্ত সংগঠন একতাবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত কর্মসূচিকে ব্যর্থ করে দিতে না পারে। দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলাবর মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে র্যালি পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বক্তব্যের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এছাড়া তিনি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমেদ সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়ন, রফিকুর রহমান তোতন, ইকরামুল হক ইকু চৌধুরী, শামসুল হুদা, গোলাম মোস্তফা, আব্দুল ওহাব, নুর উন নবী, আনোয়ার হোসেন, আলতাপ হোসেন আব্দুর রশিদ, আবু নঈমসহ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নিহতের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শেখ হাসিনার রক্ত চক্ষু এবং আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনীর নির্যাতন উপেক্ষার করে রাজপথ আকড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি তার কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়ে যান। মনে রাখতে হবে কেবল বিএনপি নয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই বাংলাদেশকে সফল করতে এবং বিগত জুলাই আন্দোলন এবং দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দলনে সহকর্মীদের আত্মত্যাগের মূল্য দিতে হলে বর্তমান সরকারকে সফল করতে হবে। আসুন হাতে হাতে কাধে কাধ মিলিয়ে সকল ষড়যন্ত্র মোকবেলা করে নিজেদের বাস গৃহের চর্তুক দিক দুর্গের মতো পরিণত করি। যাতে করে কোন ষড়যন্ত্রকারী এক না হতে পারে এবং এক হয়ে সরকারকে কোন প্রকার অস্বস্তিতে ফেলতে না পারে। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের আওয়ামী লীগ এমন এক রাজনীতির চর্চা করে গেছে, যারা নতুন রাজনীতিতে এসেছে তারা হয়তো মনে করেন ওটিই রাজনীতির মূল সংস্কৃতি। যেটি আমরা নতুন নতুন কিছু রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে দেখতে শুনতে পাই। কিন্তু এটা রাজনীতির মূল সংস্কৃতি হতে পারে না। নতুন বন্দোবস্তের কথা বলবো কিন্তু প্রকৃত ফ্যাসিস্টের ভাষায় কথা বলবো প্রতি মুহুর্তে অন্যদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবো বড়দেরকে অসম্মান করবো এটি কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। এই সংস্কৃতি বাংলাদেশের মাটির সংস্কৃতি নয় এবং সেটি বিএনপিও ধারণ করে না। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ৪৮ বছর আগে শহীর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলের যে বীজটি বপন করেছিলেন সেটি মহিরুহে পরিণত হয়েছে। আজকে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করি, সেই গণতন্ত্রের ভিত্তিভূমি রচন করার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উদ্যোগ এবং বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগ যতদদিন বাংলাদেশ থাকবে দেশের মানুষ শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে। আমরা সেই গর্বিত পূর্ব পুরুষদে উত্তরাধিকার। যারা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার থেকে শুরু করে দেশের ইতিহাসের প্রতিটি বাকে বাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড় এই মূল মন্ত্র নিজের মধ্যে গেথেই রাজনীতিতে এসেছি। যতদিন বাঁচবো রাজনীতির মাঠে এই মূলমন্ত্রকে পূঁজি ভেবে হাটবো এই বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতি করবো। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের যে উদ্যোগ সমগ্র এবং তার প্রতি জনগনের যে বিশ্বাস, আস্থা এবং প্রত্যাশার মূল্য জোগানোর দায় আমাদের রয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার, বিএনপির প্রতিটি কর্মীর দায় রয়েছে এই সরকারকে সফল করার জন্য। যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ইতি মধ্যে গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী যশোরবাসীকে যে উপহার দিয়েছেন দেড় যুগের অধিক সময় আওয়ামী লীগ সেটি দিতে পারেনি। এই বিএনপি যশোরের মানুষকে একশ শয্যার হাসপাতালকে আড়াই শয্যায় হাসপাতাল হিসেবে উপহার দিয়েছে । এই বিএনপির যশোরের মানুষকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল উপহার দিতে কাজ শুরু করেছে। যশোরের যা কিছু উন্নয়নের চাহিদা রয়েছে, এই চাহিদা বিএনপি অতীতে মতো আবার পূরণ করবে। সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং পরিচালনা করেন, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। পরে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে র্যালি বের হয়ে দড়াটানা, চিত্রা মোড়, চৌরাস্তা মোড়, জেল রোড, চভোলাট্যাংক রোড হয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে এসে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শহিদুল বারী রবু, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, অ্যাড. মোহাম্মদ ইসহক, সাবেক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান খান, আব্দুস সালাম আজাদ, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাড. হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মারুফুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মকবুল হোসেন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি, সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ ইমরান প্রমুখ।