সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন (১৮৪০৯) ঢাকা বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হয়েছেন। কেশবপুরে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ কেশবপুরে যোগদানের পর থেকেই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও ১৪৪টি গ্রামের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন তিনি। জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি বা স্বল্পতার মধ্যেও নিজ দপ্তরের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সরকারি ও বেসরকারি সেবা দ্রুত জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল, সন্ত্রাসমুক্ত, উন্নয়নমুখী ও আলোকিত কেশবপুর গড়ে তুলতে কাজ করেছেন বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান। দায়িত্ব পালনকালে মানবিক নানা উদ্যোগের জন্যও প্রশংসিত হন ইউএনও রেকসোনা খাতুন। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় তিনি নিজে উপস্থিত থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। এছাড়া হাসপাতালের রোগী, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের সদস্য এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে আটজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ সৌন্দর্যবর্ধন এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান তৈরির উদ্যোগও মানুষের নজর কাড়ে। কেশবপুরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি, প্রশাসনিক সেবা প্রদান এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানে আন্তরিকতার পরিচয় দেন। ফলে তিনি একজন দক্ষ, সৃজনশীল ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ সময় সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ঢাকা বিভাগে বদলি হওয়ায় কেশবপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন কর্মস্থলে তার সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।