Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

কাজে আসছে না ১৪০ কোটির প্রকল্প, ভবদহের জলাবদ্ধতায় ডুবলো ৫০ গ্রাম

এখন সময়: সোমবার, ২৭ জুলাই , ২০২৬, ০১:৫৫:০০ এম

উৎপল বিশ্বাস, নেহালপুর : জুলাই মাসের টানা বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে যশোরের ভবদহ অঞ্চলের প্রায় ৫০টি গ্রাম ও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি ও সৃষ্ট নিম্নচাপে চলতি মাসের একাধারে বৃষ্টিতে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, ধর্মীয় উপসানলয়। তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার মাছের ঘের, পুকুর। যেখানে ক্ষতি প্রায় ২০ কোটি টাকা। বিলগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে পানি। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন বাড়ি ঘর, ঘরের প্রবেশ করছে পানি। লঘুচাপের ফলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভবদহ পাড়ের প্রায় ১ লাখ মানুষ। তথ্য বলছে, ২০০৫, ২০০৬, ২০১৬, ২০১৪, ২০২০ ও ২০২১ ২০২৪, ২০২৫ সালে ভবদহ অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল। এ বছর সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে ভরসা রেখেছিলেন ভুক্তভোগীরা। সরকারিভাবে নদী ও খাল খননের কাজ চললেও বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকারি সূত্র বলছে, প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় অক্টোবর ২০২৫ সালে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন ২০২৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে নদী খনন কাজ শেষ হলেও সে প্রকল্প এখনো জলাবদ্ধতা নিরসনের কোন কাজে আসেনি। প্রকল্পের আওতায় ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচটি নদীর মোট ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে। নদীগুলো হলো হরিহর, হরি-তেলিগাতি আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদী। এর মধ্যে হরি ও তেলিগাতি নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং টেকা নদীর ৭ কিলোমিটার অংশে খনন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সরেজমিনে ভবদহ স্লুইসগেটে দেখা যায়, গেটের কপাট ওঠানামা করছে না, ৪টি পাওয়ার পা¤প চালু আছে ও ৫টি পাওয়ার পা¤প স্থাপনের চেষ্টা চলছে। এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভয়নগর উপজেলার ডহর মশিয়াহাটি, ডুমুরতলা, আন্দা, বলারাবাদ, বেদভিটা, চলিশিয়া, বারান্দী, দিঘলিয়া, দামুখালী, কপালিয়া ও দত্তগাতী গ্রাম এবং মণিরামপুর উপজেলার হাটগাছা, নেবুগাতি, পাঁচকাটিয়া, ভুলবাড়িয়া, পাচাকড়ি, সুজাতপুর, কুলটিয়া, লখাইডাঙ্গা, মহিষদিয়া, আলীপুর, পোড়াডাঙা, পদ্মনাথপুর, পাড়িয়ালী, দহাকুলাসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের বেশিরভাগ বাড়ির আঙিনায় সাথে ঘরেও পানি উঠেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এ সব গ্রামের মানুষ। জানা গেছে, যশোরের সদর উপজেলার আংশিক, অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয় শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে। এই অঞ্চলটি ভবদহ অঞ্চল নামে পরিচিত। ২০১৩ সালের পর এলাকার কোনো বিলে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেমেন্ট বা জোয়ারাধার) চালু না থাকায় পলি পড়ে এলাকার পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর বুক উঁচু হয়ে যায় সাম্প্রতিক নদী খনন করলেও তা কাজে আসেনি। ফলে নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এছাড়া এলাকার ৫-৬টি বিলের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ আমডাঙ্গা খালটি সংস্কার না করায় এবং খালের উপর নির্মিত ব্রিজটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় ওই পথে ঠিকমত পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এই অবস্থায় বৃষ্টির পানিতে এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হয়েছে। বিল উপচে পানি বিলসংলগ্ন গ্রামগুলোতে প্রবেশ করছে। চলাচলের কয়েকটি রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন ভবদহ অঞ্চলের মানুষ। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার কয়েকটি জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ডুমুরতলা-বেদভিটা রোড, বলারাবাদ রোড, আন্দা-বলারাবাদ রোড, আন্দা- ডুমুরতলা রোড় এখন পানির তলে। পানি উঠেছে মশিয়াহাটি-সুন্দলী রোডের অন্তত ১০টি জায়গায়। অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের স্কুলশিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস বলেন, গ্রামের একশ ৫৫টি বাড়ির ৬টি বাদে সব বাড়ির উঠানে দুই থেকে তিন ফুট পানি উঠেছে। সামান্য বৃষ্টি হলিই বাড়ি ছাড়তি অবে। মণিরামপুর উপজেলার হরিদাশকাটি ইউনিয়নের দীপকর মন্ডল বলেন, আমাদের ইউনিয়নে ২২টি গ্রাম। তারমধ্যে তিনটি গ্রামের অধিকাংশ এলাকায় এবং অপর ৪/৫টি গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িতে পানি উঠেছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সুন্দলী এলাকার সদস্য হরিনাথ বিশ্বাস বলেন, এলাকার বিলগুলোতে জল থৈ থৈ করছে। অনেক মাছের ঘের ও ফসল তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে বিল উপচে জল প্রতিদিন বাড়িঘরে ঢুকছে। ইতোমধ্যে সুন্দলী এলাকার সকল বাড়িতে পানি ঢুকেছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘কয়েকদিনের সামান্য বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকা ডুবতে শুরু করেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৫০টিরও বেশি গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কারো কারো ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করছে বলে শুনেছি।’ তিনি বলেন, ‘এলাকার বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু না করলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি নেই।’ যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)