নিজস্ব প্রতিবেদক: ভবদহ অঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও তীব্র মানবিক বিপর্যয়। যশোর ও খুলনা জেলার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় উঠে আসছেন। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রোববার ২৬ জুলাই দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা/মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। স্মারকলিপিতে সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে চরম দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে। আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে টালবাহানা: খাল সংস্কারের কার্যাদেশ দেয়ার দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও নানা অজুহাতে কাজ আটকে আছে, যা দিয়ে অন্তত ২৫% পানি নিষ্কাশন সম্ভব হতো। নদী খননে অব্যবস্থাপনা: ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন করা হলেও খর্ণিয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বাঁধ দেয়া এবং তা ঠিকমতো অপসারণ না করায় কুলবাড়িয়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার নদী পুনরায় পলি ভরাট হয়ে গেছে। টিআরএম বাস্তবায়নে বিলম্ব: সমীক্ষায় ৯৭ শতাংশ মানুষ জোড়াধার বা টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট)-এর পক্ষে মতামত দিলেও তা নদী খননের সাথে যুগপৎভাবে চালু করা হচ্ছে না। স্মারকলিপিতে অবিলম্বে আমডাঙ্গা খালের কাজ শেষ করা, খর্ণিয়া বাঁধসহ সকল আঁড়বাঁধ তুলে দিয়ে পলি অপসারণ করা, টিআরএম বাস্তবায়ন এবং পানিবন্দী মানুষের জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থার চার দফা দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপি প্রদান শেষে ডিসি অফিস চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, “অবিলম্বে যদি পানি অপসারণ ও সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তবে আগামী ৩ আগস্ট যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, অনিল বিশ্বাস, শেখর রায়, মাসুদ শেখ, সাধন বিশ্বাস, বিকাশ চন্দ্র মল্লিক ও পলাশ বিশ্বাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।