নিজস্ব প্রতিবেদক; নানা আয়োজনে যশোরে জুলাই শহিদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হবে। ১৬ জুলাই এ দিবস পালনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে কালেক্টরেট সভা কক্ষ অমিত্রাক্ষরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয় জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জুলাই আন্দোলনের উপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যত্তিক দূর্লভ আলোকচিত্র,প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ মোনাজাত, প্রার্থনা, সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান, মিলনায়তন বা উন্মুক্ত স্থানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সরবরাহকৃত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন, সরকারি ও বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘর সমূহ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা, খ) দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা এবং বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা, সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, বিকাশ কেন্দ্র এবং ভরঘরে প্রতিষ্ঠানসমূহে বিশেষ খাবার আয়োজন, রচনা আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভসমূহে আলোক সজ্জিতকরণ করা। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, জুলাই শহিদ দিবস নতুন প্রজন্ম ভুলে না যায়, এজন্য বিশেষ আয়োজন করা হবে। ফ্যাসিবাদরা যাতে কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে এজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। কলেজের লাইব্রেরীতে যাতে জুলাই আন্দোলনের উপর খেলা বই যাতে সংরক্ষণে রাখা হয়, এজন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলাম বলেন-জুলাই শহিদ দিবসে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। জুলাই আন্দোলন বিরোধীরা যাতে স্মৃতিস্তম্ভে কোন আঘাত হানতে না পারে এজন্য সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বিশেষ নজরদারীতে রাখা হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, জুলাই শহিদ দিবসের শহিদ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ করতে হবে। শুধু দিবস পালন করলে হবে না, এটিকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। এ আন্দোলনের বিরোধীতাকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্রবদ্ধ্য থাকতে হবে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহবায়ক রাশেদ খান বলেন যারা জুলাই-আগস্টের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন নস্যাৎ করতে চেয়েছিল, তাদেরকে এদেশের মানুষ কখনো মেনে নেবেনা। এ সময় বক্তব্য রাখেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, জেলা জামাতের সেক্রেটারী অধ্যাপক আবু জাফর, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মুখপাত্র সাঈদ সান, মুখ্য সংগঠক সামিউল আলম শিমুল, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সহসভাপতি নুর ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।