নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর: মণিরামপুরে স্ত্রীর লাঠির আঘাতে সত্তোরোর্ধ্ব প্রতিবন্ধী স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত আরিফুর রহমানের ছোট স্ত্রী চাইনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার মদনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। জানাযায়, উপজেলার মদনপুর গ্রামে টিন দিয়ে ঘেরা অনেকটা ফাঁকা জায়গায় এ বাড়িতে নিহত আরিফুর রহমান ও তার ছোট স্ত্রী চাইনা বেগম থাকতেন। নিহতের স্ত্রীর কারনে তার অন্য ভাইদের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। তাদের দুই পুত্র প্রবাসে থাকলেও তাদের দুই স্ত্রী ওই বাড়িতে ছিলেন না। অভিযোগ উঠেছে প্রবাসীর দুই ছেলের টাকায় কেনা ১০শতাংশ জমি তাদের মায়ের নামে। এ কারনে মা সংসারে দুই বৌমাসহ স্বামীর উপর খবরদারি করতেন। দুই বৌমার সাথে শাশুড়ি চাইনা বেগমের বনাবনি ছিল না। ঘটনার ৪দিন দিন আগে ইরানী খাতুন নামের এক বৌমা বাড়িতে আসেন। শাশুড়ির সাথে ওই বৌমার তমুল ঝগড়ার এক পর্যায় বৌমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় শাশুড়ি। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে ছিলেন তাদের শ্বশুর আরিফুর রহমান। বৌমা বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার পর থেকে নিহত আরিফুর রহমান ও তার স্ত্রী চাইনা বেগমের ঝগড়া হয়। নিহতের ভাইপো আব্দুর রশিদ জানান, তার নিহত বড় চাচা কয়েক মাস ধরে অল্প-স্বল্প হাটাচলা করতে পারেন। বৌমা চলে যাওয়ায় চাচীর সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায় ধস্তাধস্তিতে পড়ে গিয়ে বড় চাচার মৃত্যু হতে পারে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনছুর আলী জানান, ওই দিন রাত ১০টার দিকে মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তিনিসহ স্থানীয়রা ওই বাড়িতে যান। তারা দেখতে পান আরিফুর রহমান মৃত অবস্থায় বারান্দায় পড়ে আছে। মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ জানান, নিহতের মাথায় যে আঘাতের চিহ্ন, তাতে মৃত্যুর সম্ভাবনা কম। তবে, কি কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়না তদন্তের রিপোর্টে উন্মোচিত হবে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী চাইনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।