নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশ অফিসার পরিচয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে ৩০ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিল্লাল হোসেন নামে এক প্রতারককে আটক করেছে যশোরের পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের বকুলতলার মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক বিল্লাল হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার জয়নগর গ্রামের খোদাবক্স সরদারের ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি মনিরামপুর উপজেলার ভরতপুর গ্রামে। তার স্বামী বিদেশে থাকেন। তিনি বর্তমানে যশোর শহরের শংকরপুরের বাসিন্দা। ৮/৯ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারক বিল্লাল হোসেনের সাথে তার পরিচয় হয় ওই নারীর। তারা মাঝে মাঝে মোবাইলে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে বিল্লাল হোসেন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে ভুক্তভোগী নারী এতে রাজি হননি। পরবর্তীতে প্রতারক বিল্লাল হোসেন শংকরপুরে ওই নারীর বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে এসে নিজেকে পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন। তাছাড়া পুলিশ অফিসার হিসেবে নিজেকে বিশ্বাস করাতে ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে যান বিল্লাল হোসেন। তাকে ঢাকার বিভিন্ন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিয়েতে রাজি হলে নানা কৌশলে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ওই নারীর কাছ থেকে মোট ৩০ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেন বিল্লাল হোসেন। টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার পর বিল্লাল হোসেন তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতারক বিল্লাল হোসেনের অবস্থান শনাক্তের পর শুক্রবার গভীর রাতে কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের বকুলতলার মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারী প্রতারক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। শনিবার আটক বিল্লালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।