নিজস্ব প্রতিবেদক : বাঘারপাড়ার রায়পুর গ্রামের যুবক সাহাবীর হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণকারী পিতা-পুত্রকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিরা হলেন- কৃষ্ণনগর গ্রামের আবু হাসান মণ্ডল ও তার ছেলে নাজমুস সাকিব। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৫ মে সকালে রায়পুর গ্রামের আবু হানিফ ও তার ছেলে সাহাবীর রায়পুর বাজারে ৫০ মণ ধান বিক্রির জন্য নিয়ে যান। প্রতি মণ ১,১৭০ টাকা দরে আসামি হাসান মণ্ডলের কাছে ধান বিক্রির চুক্তি হয়। তবে ওজন কম দেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আসামি হাসান মণ্ডলের নির্দেশে ছেলে সাকিব আড়তে থাকা একটি ধারালো বার্মিজ চাকু দিয়ে হানিফকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পিতা হানিফকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ছেলে সাহাবীরকেও ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করে সাকিব। চিৎকারে বাজারের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঘারপাড়া, পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত সাহাবীরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সাহাবীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ জুন মারা যান। এ ঘটনায় আহত আবু হানিফ কিছুটা সুস্থ হয়ে ৪ জুন হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আবু হাসান ও তার ছেলে সাকিবকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশে ১০ জুন বাঘারপাড়া থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। ২২ জুন আহত সাহাবীরের মৃত্যু হওয়ায় ২৪ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই সঞ্জিত কুমার আদালতে ৩০২ ধারা সংযোজনের আবেদন করেন। এ মামলার পলাতক দুই আসামি আবু হাসান ও তার ছেলে সাকিব বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।