Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

উপশহরে জাতীয় গৃহায়ণের ‘দানবীয়’ উচ্ছেদের প্রতিকার ও পুনর্বাসন চেয়ে স্মারকলিপি

এখন সময়: সোমবার, ২২ জুন , ২০২৬, ১১:৩৩:৪৯ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর উপশহরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ পরিচালিত সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানকে ‘বেআইনি ও দানবীয়’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। উচ্ছেদের প্রতিকার, যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের দাবিতে সোমবার যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন সর্বস্তরের ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরা। স্মারকলিপি প্রদানের পূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন-বিগত ১০ ও ১১ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যশোর ও খুলনা অফিস যৌথভাবে কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া ব্যতিরেকেই উপশহর এলাকায় আকস্মিক ও বর্বর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। ভুক্তভোগীদের বৈধ মালিকানার নথিপত্র এবং মহামান্য আদালতের চলমান দেওয়ানি মামলার নিষেধাজ্ঞা (স্টে-অর্ডার) সংক্রান্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদকারী কর্মকর্তারা তা সম্পূর্ণ অমান্য করেন। উচ্ছেদকারী কর্মকর্তারা আইনি নথিপত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মাথা গোঁজার ঠাঁই মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের অভিভাবক জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার এই আইনবহির্ভূত উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে পূর্ব থেকে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন না। স্থানীয় প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থার এমন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা দেশের আইনের শাসনকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ‘তুহিন’ নামক এক কর্মকর্তা আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেছিলেন। সেই ঘুষের টাকা না দেয়াতেই প্রতিহিংসামূলকভাবে প্রায় ২০০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জমি বাবদ গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে আগেই টাকা নিয়েছে। যার সব প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু ঘুষ না দেয়ায় আজ আমরা ঠিকানাহীন। তারা আরও বলেন-স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা কোনো আইনি প্রতিকার পাননি। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বলছেন তারা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। চরম অমানবিক ও নিষ্ঠুর উপায়ে ঘরবাড়ি ভেঙে তাড়িয়ে দেওয়ায় নারী-শিশুসহ শত শত মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে ভুক্তভোগী নাগরিকবৃন্দ স্মারকলিপিতে ৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিগত ১০-১১ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। প্লট বরাদ্দে সংঘটিত দুর্নীতি ও বৈষম্যের দ্রুত তদন্ত করতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অবৈধ ও রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দকৃত সকল প্লটের বরাদ্দ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অবৈধ এজেন্ডা বাস্তবায়ন স্থগিত করতে হবে।দীর্ঘদিনের বসবাসকারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্ব-স্ব প্লটে পুনর্বাসন করতে হবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নীতিমালা মেনে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক পদ্ধতিতে প্লট বরাদ্দ দিতে হবে। দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশ অমান্য করে, নোটিশ ছাড়া এই দানবীয় অভিযান পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় ও আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্মারকলিপিতে অসহায় ও মজলুম মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকারের ন্যায়বিচার ও মানবিক বিবেচনার মাধ্যমে তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া অধিকার, জমি এবং আইনি নিরাপত্তা দ্রুত ফিরে পাবেন। মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন, ফাতেমা ইয়াসমিন, সুমাইয়া পুতুল, আব্দুল আলিম বাদল, নজরুল ইসলাম ঝন্টু, আবু তাহের, রুবেল হোসেনসহ উপশহরের ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)