মিরাজুল কবীর টিটো : যশোর উপশহর হাউজিং এস্টেটের উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জাতীয় গৃহায়নের চেয়ারম্যানকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার সকালে কালেক্টরেট সভাকক্ষ অমিত্রাক্ষরে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন-উপশহরে প্লট উচ্ছেদে বৈষম্য করেছে হাউজিং এস্টেট কর্তৃপক্ষ। যেগুলো উচ্ছেদ করার কথা সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি। ঈদগাহ ও স্কুল উচ্ছেদের মধ্যে ছিল না। তারপরও শাপলা কিন্ডার গার্টেন নামে একটি স্কুল ভবন ভেঙে দেয়া হয়েছে। ঈদগাহও ভাঙার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আগে হাউজিং এস্টেটে প্লটের নামপত্তন করা হতো। এ কাজে বাণিজ্য করার জন্য ঢাকা অফিসে নেয়া হয়েছে। এতে এলাকাবাসির ক্ষোভ বেড়েছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন-দুর্নীতি সরকারের সকল কাজ ম্লান করে দিচ্ছে। যে কারণে আওয়ামী লীগের সময় বরাদ্দকৃত প্লট বরাদ্দ বাতিল করা হয়নি। প্লটের নামে হাউজিং এস্টেট সীমাহীন দুর্নীতি করছে। জেলায় ধর্ষণ বেড়েছে। এটি প্রতিরোধে কঠোরভাবে আইনের পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।
এ বক্তব্যে প্রেক্ষিতে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন-হাউজিং এস্টেটের উচ্ছেদের বিষয়ে একাধিক আবেদন পেয়েছি। উচ্ছেদ করতে হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারকে জানাতে হবে। কিন্তু জানানো হয়নি। পরবর্তী উচ্ছেদের সময় পুলিশ দেয়া হবে না। উচ্ছেদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর উচ্ছেদের বিষয়ে জাতীয় গৃহায়নের চেয়ারম্যানকে জানানো হবে।
তিনি আরো বলেন-জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, আনসার, র্যাবের সমন্বয়ে ট্যাস্কফোর্স গঠন করা হবে। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চালানো হবে। ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে রাখার স্থায়ী সমাধানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গার্ড রাখতে হবে। আদালতের মামলার জট কমাতে সারা দেশের মধ্যে যশোরে গ্রাম আদালত সক্রিয় রয়েছে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন-জেলা কোন এলাকায় ধর্ষন হলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা চালানো হয়। যখন এটা না হয় দুইতিন পর পুলিশের কাছে আসা হয়। তখন আলামত নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও পুলিশ আইনী ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি আরো বলেন জেলার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাতে ৪শ’ পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। সবাই মিলে সহযোগিতা করলে মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক বলেন-যশোর শহরে অতিরিক্ত ইজিবাইক, অটোরিক্সা চলাচলের করণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনের মোবাইলকোর্ট পরিাচলনা করা প্রয়োজন।
পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন-ইজিবাইকের পরিবর্তে ব্যক্তির নামে লাইসেন্স দেয়া হবে। এ লাইসেন্স দেয়া ট্রাফিক পুলিশের ক্লিয়ারেন্সের হবে উপর। ইউনিয়নের ইজিবাইক শহরে চলাচল করতে দেয়া হবে না। এটি কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। খুব শীঘ্রই এ সংক্রান্ত মাইকিং করা হবে। তবে শহরে স্কুলের বাসগুলো ১০ মিনিট পরপর থামিয়ে শিক্ষার্থী উঠানো নামানোর কারণে যানজট হচ্ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা বলেন-২৫০ শয্যা হাসপাতালে সামনের অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে রাখা ও ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো বন্ধের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। লাইসেন্স ফেল হওয়া ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে অভিযান চালানো প্রয়োজন।
প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন-তেল সংকটের সময় এক পাম্পে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৪০ হাজার টাকা, আরেক পাম্পে এসিল্যান্ড অন্যায়ভাবে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে। আপিল করা হলেও সেই টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি। পৌরপার্কে বন্ধের দিন ছিনতাই বেড়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া দরকার।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস বলেন-ধর্ষণের ভিকটিম থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয় না। আইন সংক্রান্ত কাজে থানায় যাওয়া হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। সম্প্রতি যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।
এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ গফুর, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, বিজিবির নায়েব সুভেদার মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব কমলেশ মজুমদার।