শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : পূর্ব সুন্দরবন শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শেখ মাহবুব হাসানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক পর্যটককে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং মিথ্যা অভিযোগ মামলা দায়েরের অপরাধে দীর্ঘ দুই বছর তদন্তের পর এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। গত ১৬ মে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শামীম হাসান আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত অন্য চারজন হলেন-বনরক্ষী মতিউর রহমান, আবুল হাসান, নাজমুল হক ও নজরুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল মামলার বাদী মোহাম্মদ জুয়েল তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। সুন্দরবনে প্রবেশের বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি এসিএফ মাহবুব হাসানের সাথে যোগাযোগ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে পূঁজি করে রেঞ্জ সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে জোরপূর্বক বন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সরকারি গেজেট অনুযায়ী বনে প্রবেশের ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে জুয়েলকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মারধর করে এসিএফ মাহবুব সহ সঙ্গীয় বনরক্ষীরা। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গভীর সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী ফরেস্ট অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চরখালী টহল ফাঁড়ির পুকুর ঘাটে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে গায়ে জোরপূর্বক কাদা মেখে ছবি তুলে তাকে হরিণ শিকারি বানানো হয়। এরপর বন আইনের একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করে তারা। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর জুয়েল চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং ২ মে ২০২৪ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে রুজু হওয়ার পর দীর্ঘ তদন্ত শুরু হয়। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন মামলার তদন্ত শেষে এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে গত ১৬ মে আদালতে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার বাদী মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, ‘মামলা দায়েরের দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন এজন্য আমি শুকরিয়া আদায় করছি আল্লাহর। মামলা দায়েরের পর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছিল। আশা করছি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাব।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী এনামুল হক জানান, পুলিশের দেয়া চার্জশিটের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম হয়েছে। বর্তমানে মামলার প্রধান অভিযুক্ত শেখ মাহবুব হাসান বন ভবনের সংস্থাপন ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন।