মিরাজুল কবীর টিটো: ‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ । অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রম ও অর্জনের পরিসংখ্যান অফিস থেকে জানানো হয়, যশোর জেলায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৩৮৬টি সড়ক ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় ৩৯ জন নিহত ও ৪৩২ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে পাঠিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। একই বছরে জেলায় মোট ৩৮৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, গত বছরে ৩৫৬টি গণসংযোগ, ৩৪৫টি টপোগ্রাফি এবং শপিংমল, হাট-বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৬৮টি মহড়া পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৬টি কর্মসূচির মাধ্যমে ৩ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবার আওতায় গত বছরে ১৭৮টি কলে সাড়া দিয়ে ১৫০ জন রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে । প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। তিনি বলেন-মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। ফোন পাওয়া মাত্রই তারা ঘটনায়স্থলে গিয়ে পৌঁছায়। তবে যানজটের কারনে অনেক সময় দেরী হয়। এর কারন হল অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ভবন মালিকদের পরিকল্পিত ভবন নির্মাণ করাসহ অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স যশোর স্টেশনের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ফিরোজ আহমেদ, ইন্সপেক্টর আবু ইউসুফ পান্না, লুৎফর রহমান প্রমুখ। এরপর শোভাযাত্রা বের করা হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে স্টেশনে এসে শেষ হয়। এরপর প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রাংশ পরিদর্শন করেন।