নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই খরতাপে পুড়ছে যশোরের প্রাণ-প্রকৃতি। গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে জনজীবন। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আগুনে পুড়েছে যশোর। এর আগে চৈত্রের শেষভাগ এবং বৈশাখেও কয়েকদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করেছে যশোরে। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শনিবার ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার দেশের ১৩ জেলায় তাপপ্রবাহ বইছে। আগামী দু’একদিন এই তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। তবে এ সময় দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টিও থাকতে পারে। শুক্রবার খুলনা বিভাগের সব জেলায় এবং মাদারীপুর, ফরিদপুর ও নোয়াখালী জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। খুলনা বিভাগের জেলার সংখ্যা ১০। এর সঙ্গে বাকি তিনটি মিলিয়ে মোট ১৩ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে শুক্রবার। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, যশোরে এই তাপপ্রবাহে গোটা প্রাণ-প্রকৃতি দগ্ধ হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তা, ঘাট, ফসলের ক্ষেতে চোখ ঝলসানো উত্তাপ বিরাজ করছে। ঘরের বাইরে বের হলেই আগুনের হল্কা গায়ে লাগছে। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষ রাস্তার পাশে জিরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাতে মুখে পানি দিয়ে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউবা শরবত, আখের রস, স্যালাইন পানিতে শরীর শীতল করার চেষ্টা করছেন। যশোর শহরের লালদীঘিপাড়ে আখের রস বিক্রি করেন আবদুল জলিল। তিনি জানালেন, প্রচন্ড গরমে অনেক মানুষ আসছে আখের রস খেতে। কিন্তু রস বিক্রি করতেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না। ছায়া খুঁজে দাঁড়িয়ে রস বিক্রি করতে হচ্ছে। যশোর শহরের রেলগেট এলাকার রিকসাচালক আলী হোসেন বলেন-প্রচন্ড গরমে গায়ে যেনো আগুনের ধাক্কা লাগছে। একটু রিকসা চালালেই ঘামে গা ভিজে যাচ্ছে। গরমে মাথা ঘুরে উঠছে। দড়াটানা এলাকায় রিকসাচালক হোসেন মিয়া বলেন, গরমে রিকসা চালালে গায়ে যেনো আগুনের ছ্যাকা লাগছে। তারপরও রিকসা চালাতে হচ্ছে। কিন্তু ঠিকমত ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। গরমে বাইরে মানুষ কম আসছে। দড়াটানা চৌরাস্তা থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নিয়ে গেলেও খালি ফিরে আসতে হচ্ছে। যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে, বৃষ্টি দিয়েই শুরু হয় চলতি মাস। গত দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়। আর তাতে মে মাসের তীব্র গরম ততটা অনুভূত হয়নি ; বরং দেশের দ্বিতীয় উষ্ণ মাসে রাতের বেলায় খোদ রাজধানীতেও গায়ে চাদর জড়িয়ে ঘুমাতে হয়েছে। বৃষ্টি হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টি অনেকটাই কমে গেছে। কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার রাজশাহী ছাড়া আরও ৯ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো যশোর ও সিরাজগঞ্জে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফরিদপুরে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও পাবনায় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৩, ঢাকায় ৩৬ দশমিক ২ এবং খুলনায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।