নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ফ্যামেলি কার্ড পেলেন যশোরের ২ হাজার ৪২জন। শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চাঁচড়া-ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের হাতে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেন। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে উপকারভোগীদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করেন স্থানীয় সংসদ, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এদিকে, তারেক রহমানের উদ্বোধনের আগেই মোবাইল ফোনে ফ্যামেলি কার্ডের টাকা পেয়ে বেজাই খুশি উপকারভোগীরা। এসময় যশোরে নির্বাচনী জনসভায় এসে ফ্যামেলি কার্ড দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারেক রহমান; সেটা বাস্তবায়ন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন উপকারভোগীরা। নবম শ্রেণী ছেলে ও দ্বিতীয় শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া বর্মণ পাড়াতে থাকেন সুকেশ বর্মণ ও রেখা রাণী বর্মণ দম্পত্তি। ভ্যানচালক স্বামীকে নিয়েই এদিন ভাতুড়িয়া স্কুল মাঠে আসেন রেখা রাণী। পরণে জবা ফুলের ছাপওয়ালা লাল শাড়ি। প্রতিবেশিদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলেই ছিলেন রেখা রাণী। হঠাৎ তার ফোনে মেসেজ আসে। মুঠোফোনে মেসেজে দেখেন তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাবে ২৫ শ’ ১৫ টাকা এসেছে। সাথে সাথে তার চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। অনুষ্ঠানস্থলেই মোবাইল ফোনে ফ্যামেলি কার্ডের টাকা পেয়ে বেজাই খুশি তিনি। রেখা রাণীর ভাষ্য-‘আগে আমি কোন কার্ড বা সুবিধা পায়নি। প্রথমবার কোন সরকারের কাছ থেকে সুবিধা পাওয়াতে খুব আনন্দ লাগছে। স্বামী ভ্যান চালায়, যা আয় রোজগার; সেই টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম। আমারও কোন আয়রোজগার নাই। সরকার আমার জন্য যে ফ্যামেলি কার্ড দিয়েছে সেই টাকাটা পেয়ে সংসারের কাজে লাগাতে পারবো। মাঝে মধ্যে সন্তানদের কিছু কিনেও দিতে পারেবো।’ রেখার মতো খুশি পঞ্চাশোর্ধ জামেলা বেগমও। মেডিকেল কলেজপাড়ার এই বাসিন্দাও অনুষ্ঠানে পেয়েছেন ফ্যামেলি কার্ডের টাকা। ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্বরে বলছিলেন, ‘সন্তানেরা থাকলেও তাদের যে রোজগার; তাদের চলে না। এর মধ্যে আমি ও আমার স্বামী বয়স্ক। নানা রোগে আক্রান্ত। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না ঠিকমতো। বেটার বৌয়ের নাম্বারে একাউন্ট খোলা হয়েছে। তাতেই টাকা ঢুকেছে। টাকাটা পেয়ে খুব উপকার হলো। ওষুধ কিনতে কাজে লাগবেনে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যশোরে তরিকুল ইসলামের ছেলে অমিতের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া থাকলো।’ অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জেলা প্রশাসন ও বিএনপির শীর্ষনেতাদের নিয়ে উপকারভোগীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মুখে ফাঁকা বুলি দেয় না। সরকারের প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন হচ্ছে। সরকারের যেমন যশোরে এসে ফ্যামেলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি ছিলো; যশোরবাসী হিসাবে আমারও নির্বাচনে অয়াদা ছিলো এই কার্ডের। তারই অংশ হিসাবে চাঁচড়াতে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করা হলো। আস্তে আস্তে সদর উপজেলার ১৩৫টি ওয়ার্ড, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ফ্যামেলি কার্ডের কার্যক্রম খুবই দ্রুত ছড়িয়ে যাবে। তাই আমরা আসুন, সবাই ঐক্যবন্ধ হয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করি। তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী হলে এই বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে না। পিছিয়ে থাকবে না এই দেশের জনগণও।’ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ প্রমুখ।