Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

নড়াইলে প্রতিমণ ধানের দাম ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকার দাবি কৃষকদের

এখন সময়: শুক্রবার, ১৫ মে , ২০২৬, ০১:৫০:৪০ পিএম

ফরহাদ খান, নড়াইল : নড়াইলে বোরো ধানের বাম্পার (কানায় কানায় পূর্ণ) ফলন হয়েছে। গত তিন বছরের তুলনায় চাষাবাদ যেমন বেড়েছে, তেমনি ফলনও ভালো হয়েছে। শেষ মুহূর্তে কৃষাণ-কৃষাণীরা এখন সোনালি ধান তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কথা জানিয়ে প্রতিমণ ধানের দাম ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকার দাবি জানিয়েছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা।
পহেলা বৈশাখ থেকেই নড়াইলে শুরু হয়েছে বোরো ধানকাটার উৎসব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় কৃষকেরা বোরো ধান ঠিকমত ঘরে তুলতে না পারলেও নড়াইলে সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে ধান তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা।
এদিকে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কথা জানিয়ে প্রতিমণ ধানের দাম ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকার দাবি জানিয়েছেন নড়াইল পৌর এলাকার দুর্গাপুরের ইপি রানী, সঙ্গীতা বিশ^াস, মাধব কুমার বিশ^াস, অজিত বিশ^াস, নারায়ন চন্দ্র বিশ^াসসহ এলাকার কৃষাণ-কৃষাণীরা। তাদের দাবি, বর্তমানে প্রতিমণ ধান জাতভেদে ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি জনপ্রতি শ্রমিকের মূল্য ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। সঙ্গে তিনবেলা খাবার ও আবাসিক ব্যবস্থা। এছাড়া বীজের মূল্য, সার, ওষুধ, সেচ, পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ রয়েছে।
ধানের উৎপাদন খরচ ও বাজার দরের চিত্র তুলে ধরে কালিয়া উপজেলার পিরোলী গ্রামের গোলাম মোর্শেদ শেখ বলেন, অঞ্চল ও জাত ভেদে প্রতিমণ ধানের উৎপাদন খরচ সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। বর্গাচাষী হলে উৎপাদিত ধানের এক ভাগ মালিককে দিতে হচ্ছে। আর দুই ভাগ চাষী পাচ্ছেন। ফলে বর্গাচাষী উৎপাদিত ধানের আর্থিক সুবিধা পরিপূর্ণ পাচ্ছেন না। একাংশ কম পাচ্ছেন। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ ধান ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, এ বছর নড়াইল জেলায় ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ৫০ হাজার ৩০৯ হেক্টর। যা গত বছরের তুলনায় ১২ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চলতি ২০২৫-২০২৬ মওসুমে ৯ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে হাইব্রিড ও উফশী জাতের ধানবীজ এবং সার দেয়া হয়েছে। এছাড়া ধানের পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ বছর চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন।
অপরদিকে, ২০২৪-২০২৫ মওসুমে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল। এর আগে ২০২৩-২০২৪ মওসুমে ৫০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছিল। চলতি ২০২৫-২০২৬ মওসুমে ৫০ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। তিনটি মওসুমের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিবছরই নড়াইল জেলায় বোরো ধানের চাষাবাদ বাড়ছে।
এদিকে, এই মওসুমে নড়াইলে কয়েকদফায় গড়ে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হলেও ধানের বড় ধরণের ক্ষতি হয়নি। বরং বৃষ্টিতে লিচু, আম, জামরুল, পাটসহ মওসুমি বিভিন্ন ফসল, শাক-সবজি ও ফলের উর্বরতা বেড়েছে। গরমের প্রভাব কমেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)