নিজস্ব প্রতিবেদক : যুবলীগের ব্যানারে যশোরে রাতের আঁধারে সরকার বিরোধী মিছিল করার অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ৫ এমপিসহ আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এসআই আশরাফ উদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। পুলিশ বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলো- শহরের কাজীপাড়ার আনসার আলীর ছেলে সৈয়দ তৌফিক জাহান, নুরুল আলমের ছেলে শফিকুল ইসলাম সুজন, মৃত লোকমানের ছেলে বাবলু শেখ, শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহান হোসেন, ষষ্টিতলা এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু, সদরের ভেকুটিয়া গ্রামের কারিগরপাড়ার শহিদুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম, সুজলপুরের রফিক উদ্দিনের ছেলে সুমন ও ইমন এবং ভেকুটিয়ার মৃত সলেমান দফাদারের ছেলে শাহাজাহান।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশের রাস্তা আজিজ সিটি রোডে একত্রিত হয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মোমবাতি ও হারিকেন জ্বালিয়ে ৮০ থেকে ১০০ জন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী নানা ধরনের স্লোগান দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলকারীরা পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে প্রথম ১৩ জন এই নিষিদ্ধ সংগঠনের গডফাদার ও অর্থ যোগানদাতা। বাকি ২৭ জন নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। আসামিরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। তারা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অপরাধ করায় ৪০ জনের নামউল্লেখসহ অপরিচিত ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে এ মামলা করেছেন।
আসামিরা হলেন- যশোর- ৬ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৪ আসনের সাবেক এমপি রণজিৎ রায়, যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ আসনের সাবেক এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৫ আসনের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলী, যশোর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ফন্টু চাকলাদার, যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু চাকলাদার, যুবলীগের সাবেক নেতা শহীদুজ্জামান বাবু ওরফে দাতাল বাবু, শেখ আতিকুর রহমান বাবু, যশোর শহরের পুরাতনকসবা কাজীপাড়ার ইয়াকুব আলীর ছেলে ফাহিম মোল্লা, রনজিত রায়ের ছেলে রাজীব রায়, সাবেক মন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলে শুভ ভট্টাচার্য, যুবলীগ নেতা মাহমুদ হাসান বিপু, জাহিদুল ইসলাম লাবু, কামাল হোসেন পর্বত, মনি, তৌফিক, সোহান, লোকমানের ছেলে বাবলু, মৃত কিবরিয়ার ছেলে ওয়াসেল, মৃত কাটোর ছেলে রবি, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, মাসুদের ছেলে আব্দুল্লাহ, সুজন, পট্টি, নুরুল আলমের ছেলে শরিফুল আলম সুজন, আইজুলের ছেলে চয়ন, শাওন, মুন্সি বাবুর ছেলে সবুজ, আরিফ আহাদুল, বজলু খলিফার ছেলের শাহাদত, মৃত খালেকের ছেলে আমিরুল, মৃত হারুনের ছেলে শহীদ, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ডাবলু, সরোয়ারের ছেলে মিলন, মন্টুর ছেলে রিমন, বেজপাড়ার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা মোহিত কুমার নাথ, তার ছেলে রতি নাথ এবং ষষ্ঠীতলা পাড়ার সৈয়দ আহমেদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু।
বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিাবর অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আটক ৯ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারগারে পাঠিয়েছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।