মাসুম বিল্লাহ : যশোরের গ্রামাঞ্চলের সবুজ মাঠে নীরবে গড়ে উঠছে এক স্বপ্নের কারখানা-‘বন্ধন ফুটবল কোচিং সেন্টার’। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি কোচিং সেন্টার নয়, বরং এটি স্থানীয় তরুণদের জন্য ফুটবলের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রয়াস।
সাবেক খেলোয়াড়দের সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য—গ্রামের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ফুটবলকে স্থানীয়ভাবে আরও প্রাণবন্ত করে তোলা। ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ জিলুর রহমান, আবু হাদার (ক্যান্টিন), মিন্টুল হোসেন ও আজিজুর রহমান। এছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন রাজু আহমদ।
প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রশিক্ষক মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, “আমরা সবাই সাবেক খেলোয়াড়। আমরা চেয়েছি, আমাদের অভিজ্ঞতা যেন পরবর্তী প্রজন্মের কাজে লাগে। আমরা অবসরে গেলে যেন এলাকার খেলোয়াড়রা হারিয়ে না যায়, বরং আরও এগিয়ে যায়-এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের পথচলা।”
বন্ধন ফুটবল কোচিং সেন্টারে ভর্তি কার্যক্রম বছরে একবার আনুষ্ঠানিকভাবে হলেও বাস্তবে সারা বছরই খেলোয়াড় ভর্তি করা হয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় এখানে বেতনের কোনো চাপ নেই; খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী ভর্তি ফি নেওয়া হয়।
অর্জনের দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখিয়েছে। দেশের স্বনামধন্য শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমি-তে এই কোচিং সেন্টারের ১২ জন শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছে। এছাড়াও বয়সভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর একটি করে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে, যা স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে ‘বন্ধন ফুটবল কোচিং সেন্টার’ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-এর অধীনে নিবন্ধনের উদ্যোগ নিতে চায়। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি ক্রীড়া সংস্থার কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ারও প্রত্যাশা রয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের প্রধান লক্ষ্য-মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরি করা।
এই উদ্যোগটি সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। তবুও কোনো স্বেচ্ছাসেবী বা ক্রীড়াপ্রেমী ব্যক্তি যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চান, তাদের সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
যশোর সদরের ইছালী ইউনিয়নের হাশিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামের মাটিতে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট উদ্যোগই একদিন হয়তো দেশের ফুটবল অঙ্গনে বড় পরিবর্তন আনবে-এমন আশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।