প্রকাশ ঘোষ বিধান ,পাইকগাছা : পাইকগাছায় চড়ক পূজা উপলক্ষে বাড়ি বাড়ি সন্ন্যাসী নৃত্য ও শিবের গাজন গান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চড়ক পূজার একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সন্ন্যাসী নৃত্য। যা মূলত শিবের গাজন বা নীল পূজার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। চৈত্র সংক্রান্তির সময় বাংলাদেশে এই লোকজ উৎসবটি ধুমধাম করে পালিত হয়। চড়ক পূজার সন্ন্যাসী নৃত্য হলো শিবের গাজন উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা চৈত্র সংক্রান্তিতে পালিত হয়। সন্ন্যাসীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছোট পালা গান বা শিবের গাজন গেয়ে নৃত্য করে। নাচের সময় সন্ন্যাসীরা হাতে খর্গ, রামদা, ত্রিশূল নিয়ে বিভিন্ন শারীরিক কসরত দেখান। অনেক জায়গায় কাঁটা বিছানো পথে বা খেজুর গাছের ওপর সন্ন্যাসীদের নৃত্যের রীতিও প্রচলিত আছে। এই নাচে শিবের ভক্তরা সন্ন্যাসী বা শিবের বিভিন্ন রূপ ধারণ করে ঢাকের তালে এবং শিব-পার্বতীর গানে মেতে ওঠেন। এটি ভক্তি, কঠোর কষ্টসহিষ্ণুতা এবং শিবের আশীর্বাদ পাওয়ার এক অনন্য লোক-সংস্কৃতি। এটি মূলত শিবের আরাধনার একটি রূপ। সন্ন্যাসী বা নৃত্যশিল্পীরা শিব, গৌরী, নন্দী, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত সেজে নৃত্য করেন, যাকে শিবের গাজন বলা হয়। সন্ন্যাসীরা ঢাকের বাদ্যের তালে তালে বিশেষ এক ধরণের নাচ পরিবেশন করেন, যাকে আঞ্চলিকভাবে হাজরা নাচ বলা হয়। নৃত্যরত সন্ন্যাসীরা চৈত্র মাসজুড়ে নিরামিষ ভোজন করেন। সন্ন্যাসী নৃত্যের মূল প্রাণ হলো ঢাক। ঢাকের বিশেষ বোল বা তালের ওপর ভিত্তি করেই সন্ন্যাসীরা তাদের পায়ের কাজ এবং শারীরিক কসরত পরিবর্তন করেন। যারা এই নৃত্যে অংশ নেন, তারা নির্দিষ্ট সময় ধরে কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিবের মাহাত্ম্য গেয়ে ভিক্ষা করেন এবং নিরামিষ আহার করেন। চৈত্র সংক্রান্তিতে বা চৈত্রের শেষ দিনে চড়ক পূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।