স্পন্দন ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল পাস হয়েছে। রোববার সংসদের বৈঠকে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশন স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংসদে বিলটি সংসদে বিবেচনার জন্য উত্থাপন করলে কন্ঠভোটে পাস হয়। এই বিলের ওপরে কোনো আলোচনা হয়নি। বিরোধী দলের সদস্যরা এ বিলের ওপর কন্ঠভোটে অংশ নেননি। বিষয়টি চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানান, এই বিলের কোন কপি তাদেরকে দেওয়া হয়নি। যে কারণে তারা কন্ঠভোটে অংশ নিতে পারেননি।
এ পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, কোনো বিল উত্থাপনের তিন দিন আগে সব সদস্যদের কাছে বিলের কপি পৌছানোর নিয়ম রয়েছে। তবে বিশেষ কারণে স্পিকার এই সময় কমিয়ে আনার এখতিয়ার রাখেন। স্পিকার জানান, বিশেষ কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে ৯৮টি অধ্যাদেশ পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাসের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যে কারণে স্পিকার তিন দিন আগে নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল করেছেন বলে সংসদকে জানান।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রার্থীদের প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি এবং বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এ সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি করে ৩২ বছর করা হয়। কিন্তু বিদ্যমান কিছু কিছু নিয়োগবিধিতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৩, ৩৫, ৪০ ও ৪৫ বছর হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে। উক্ত অধ্যাদেশ জারির ফলে সকল ক্ষেত্রে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা হ্রাস পেয়ে ৩২ বছর নির্ধারিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে এ সকল নিয়োগে জটিলতা তৈরি হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরূপ জটিলতা নিরসনের জন্য এ অধ্যাদেশটি অধিকতর সংশোধনপূর্বক ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর রেখে সার্কুলার জারি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে বিধায় অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা প্রয়োজন।
এই আইন অনুযায়ী, বিসিএসের সব ক্যাডারে এবং ক্যাডারবহির্ভুত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্বুশাসিত সংস্থাগুলোর চাকরির যেসব পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও বয়সসীমা ৩২।
এর আগে রোববার সংসদের বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সম্পূরক কার্যসূচিতে কিছু বিল আনা হয়েছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিশেষ কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। কিছু অধ্যাদেশ ল্যাপস (বাতিল) করা হয়েছে। এগুলো গুরুত্ব এবং জুলাই চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে চান।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, যেসব অধ্যাদেশ ল্যাপস করার কথা বলা হয়েছে প্রত্যেকটি বিষয় সংষদে উত্থাপন করা হোক। তারা সেটাতে আলোচনায় অংশ নিতে চান।