মিরাজুল কবীর টিটো : চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল কিনতে না পারায় চাষাবাদে সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। তারা বলছেন- চাহিদার তুলনায় অর্ধেক ডিজেল পাওয়ার কারনে এসমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাও আবার নিতে গিয়ে গ্রামের কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজারের সিল ও সাক্ষর নিয়ে ডিজেল কিনতে পাম্পে যেতে হচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি জানেন না অনেক কৃষক। তারা পাম্পে ডিজেল নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার তালবাড়ীয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়া আয়ুব হোসেন নামে কৃষক রোববার সেচ পাম্পের জন্য ডিজেল নিতে আসেন উপশহর মকবুল পেট্রোল পাম্পে। কিন্তু তার কাছে পাম্প থেকে ডিজেল বিক্রি করেনি। পাম্পের কর্মচারী তাকে বলেন- কৃষি অফিসারের লিখিত স্লিপ ছাড়া আপনার কাছে ডিজেল বিক্রি করা যাবে না। এটা পাম্প থেকে তাকে বলার পর তিনি জানতে পারেন । ইউনিয়ন কৃষি অফিসারের লিখিত স্লিপ না থাকায় তাকে ডিজেল কিনতে না পেরে ফিরে যেতে হয়।
বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক রুবেল হোসেন বলেন- ধানের চাষের জন্য প্রয়োজন ১০ লিটার ডিজেল। এটা কিনতে কৃষকের ভোটার আইডি কার্ডের উপর গ্রামের কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজারের সিল ও সাক্ষর নিয়ে পাম্পে গেলে ৫ লিটার ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। সেটা কৃষি কাজের জন্য যথেষ্ট নয়। পাট চাষের ক্ষেত্রে বেশি ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কারন পাট চাষের পানি দেয়ার জন্য অনেক সময় ধরে মেশিন চালাতে হয়। একই কথা বলেন একই গ্রামের কৃষক বাবুল আক্তার, রেজাউল ইসলাম, বন গ্রামের কৃষক ইমান আলীসহ আরো অনেকে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন- যশোর জেলার কৃষক সংখ্যা ৫ লাখ। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ কৃষক বিদ্যুৎ চালিত সেচ মেশিন ব্যবহার করে চাষাবাদ করে। আর ২০ শতাংশ কৃষকের চাষাবাদ করতে ডিজেল ব্যবহার করতে হয়। কৃষকদের জন্য ডিজেল সংকট নেই। তাদের জন্য ইউনিয়ন কৃষি অফিসার ফুয়েল কার্ড দিচ্ছে। সেই কার্ডে কৃষকরা ডিজেল কিনতে পারছে। আর যাদের ফুয়েল কার্ড নেই, তাদের ডিজেল কেনার জন্য পাম্পে আমাদের অফিসের লোক থাকছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করে ডিজেল কিনতে পারবে।