প্রেসবিজ্ঞপ্তি : রকমারি সব ভাজাপোড়ার আইটেম- আলুর চপ, পেঁয়াজু, বেগুনী ভেঙে চুরমার করে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে মুড়ির সঙ্গে। হাতগুলো সব চলছে ক্ষিপ্র গতিতে। দ্রুত হাতে ছোলা-মুড়ি, চানাচুর ও ভাজাপোড়া মিশিয়ে ঠোঙা-ভর্তি করে রিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। চলতি পথে সারি বেঁধে লাইনে দাঁড়িয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন গ্রহণ করছেন চালকেরা। পথচলতি পথিকেরাও আপ্যায়ন থেকে বাদ যাচ্ছেন না। এমন দৃশ্য যশোর নাগরিক সংঘ আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের। শনিবার বিকেলে শহরের দড়াটানায় গরীবশাহ মাজার সড়কে যশোর নাগরিক সংঘ-যনাস রিক্সা-ইজিবাইক চালক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও পথচারীদের জন্য ঈদ-পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যনাস সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে রমজান মাস জুড়ে শহরের যানজট নিরসনে কাজ করেছিলেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা। যার ধারাবাহিতায় ঈদ পুনির্মিলনীর এই আয়োজন। যাতে শহরে চলাচলকারী যানবাহন- বিশেষ করে ইজিবাইক ও রিক্সাচালকদের সামান্য আপ্যায়নের পাশাপাশি যানজট নিরসনে নিয়ম মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা যায়। সরেজমিন দেখা যায়, সেই চিরচেনা স্বরে ও সুরে স্কুল শিক্ষক ব্রাদার টিটো একটানা মাইকে বলে চলেছেনÑ সিঙ্গেল লাইন সিঙ্গেল লাইন সিঙ্গেল লাইন...। সেই সাথে বলে চলেছেন- জোরে গাড়ি চালাবো না, হর্ন বাজাবো না ও ট্রাফিক রুল ভাঙবো না। অন্যদিকে, মস্তবড় একটি টেবিলে চলছে চানাচুর ও নানা রকম ভাজাপোড়ার মিশেলে ঝাল-পেঁয়াজ দিয়ে মুড়ি মাখানো। তারপর ঠোঙায় ভরে তুলে দেয়া হচ্ছে হাতে হাতে। সেই সাথে আপ্যায়নের আরেকটি আইটেম হিসেবে ছিল জিলাপিও। যশোরকে একটি আদর্শিক, নান্দনিক ও দূষণমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ‘ যশোর নাগরিক সংঘ’। শনিবার বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় রিকশা-ইজিবাইক চালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও পথচারীদের নিয়ে এই ঈদ পুনর্মিলনী, সচেতনতামূলক সভা ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন নিয়ে যশোর নাগরিক সংঘের সমন্বয়ক ব্রাদার টিটো বলেন, ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেও নাগরিকরা যেন স্বতস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলেন, সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন এক যশোর চাই যেখানে যানজট, ময়লা বা দুর্গন্ধ থাকবে না। আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন নির্মল বাতাসে শ্বাস নিতে পারে। বাংলাদেশের বুকে যশোরকে একটি উদাহরণ হিসেবে তৈরি করতে চালক, পথচারী, ট্রাফিক বিভাগ ও সরকারসবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবর্তন হতে হবে।” অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সালমান হাসান রাজিব, শুভ বিশ্বাস, অপু বিশ্বাস, অমিত বিশ্বাস, আহাদ আলী মুন্না, আলবিন আরাফাত আবির, উবাঈদ সামি, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাহামুদ হাসান, রফিকুল হাসান, তামিম হাসান, আমিনুল ইসলাম ও হালিম শেখ মামুন। এ ছাড়া ব্রাদার টিটোস হোম স্কুলের শিক্ষকেরাও এই আয়োজনে অংশ নেন।