ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত কৃষক দলনেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন। তবে জামায়াত নেতাদের দাবি, হামলায় নয় কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে একটি মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপপু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোনে আলম ও জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে এলাহী শিমুল এবং নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সী বক্তব্য দেন। জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, ‘জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন। তার মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়। আমরা এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।’ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, ‘বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাবে।’ জামায়াত ও শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এক সঙ্গে আমরা হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি। এখন দেশ গড়ার সময়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না।’ নিহত তরু মুন্সী (৫৫) সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গান্না ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি প্রায় দুই যুগ প্রবাসে ছিলেন। পাঁচ মাস আগে তরু দেশে ফেরেন। তার ছেলে শিপন রহমান গান্না ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য। দেশে ফেরার পর তরুও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে তরু মুন্সীর মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে বলে দাবি জামায়াতের। এদিন দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন দলটির নেতারা। বিএনপি কর্মীর মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তরু মুন্সী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করেন। যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’ তরু মুন্সীর মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে মন্তব্য করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও দোকানপাট ভাঙচুর করেছেন।’ এর আগে শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দুপুরে ইফতারের আয়োজন নিয়ে নারী কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মহিলা কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর অবস্থা গুরুতর হলে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে তরু মুন্সী মারা যান। এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘নিহত তরু মিয়ার ছেলে ৫১ জনের নামোল্লেখ এবং ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। এরই মধ্য তিনজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। ওই এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’