নিজস্ব প্রতিবেদক : রাশিয়ার ভিসা দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ ও পাসপোর্ট আটকে রেখে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে একটি ট্রাভেল এজেন্সির চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। যশোরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসিকে। বুধবার শার্শার গোপালপুর গ্রামের মৃত রশিদ বিশ্বাসের ছেলে বর্তমানে যশোর সদরের সুজলপুর জামতলা গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন।
আসামিরা হলেন- ঢাকার বারিধারা এলাকার ‘যমুনা ভিসা এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হাসান, পরিচালক মোহাম্মদ রাহানুল আলম, ম্যানেজার ইউসুফ আলী ও এজেন্ট সুমন খান।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, হাসানুজ্জামান দীর্ঘ দিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে তিনি রাশিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে ঢাকার বারিধারায় অবস্থিত ‘যমুনা ভিসা এক্সপ্রেস’ নামক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোতগ ও তার পরিচয় হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা তাকে রাশিয়ার ২ বছরের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেয়ার আশ্বাস দেন এবং বিনিময়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। চুক্তি অনুযায়ী গত ১৯ ডিসেম্বর হাসানুজ্জামান কুরিয়ারের মাধ্যমে তার পাসপোর্ট ও ২৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানের ঢাকা কার্যালয়ে গিয়ে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার ভিসা সম্পন্ন করে পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুত দিয়েছিলেন আসামিরা। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও আসামিরা ভিসা দেননি এবং পাসপোর্ট ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানান। উল্টো পাসপোর্ট ফেরত পেতে হলে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করে আসামিরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট ফেরত না পাওয়ায় বাদীর আবুধাবির রেসিডেন্স ভিসার মেয়াদ জটিলতায় পড়েছেন ও সেখানে তার ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সব মিলিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাসানুজ্জামান। বিষয়টি মীমাংসা ব্যর্থ হয়ে তিনি এ আদালতে এ মামলা করেছেন।