নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা শামীম হোসেন চুরি, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে এখন ঘরছাড়া জীবন কাটাচ্ছেন। ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে পরিবার নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম হোসেন একসময় গরুর খামার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ১ মার্চ রাতে তার খামার থেকে ১৫টি গরু চুরি হয়ে যায়। এসব গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২০ লাখ টাকা। জানা গেছে, গরুগুলো তিনি ধার করা টাকায় কিনেছিলেন। চুরির ঘটনার পর থেকেই পাওনাদাররা ধার করা টাকা ফেরতের জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
এ অবস্থায় সংসার চালাতে তিনি ২০২৫ সালের ১০ মার্চ একই গ্রামের আলতাব ব্যাপারীর কাছ থেকে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে ৫ লাখ টাকা ধার নেন। ওই টাকা দিয়ে বাড়ির সামনে একটি ছোট মুদি দোকান দেন। দোকানটিই ছিল তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ ভরসা।
কিন্তু গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার দোকানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে দোকানের মালামাল লুটপাট করা হয় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে পুরো দোকানটি পুড়ে যায় এবং মুহূর্তেই তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ধ্বংস হয়ে যায়।
এরপর থেকে শামীম হোসেন কার্যত পথে বসেছেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় পাওনাদারদের চাপও বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্রের হুমকির কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।