মারুফ কবীর : ঈদের পোশাকে থ্রি-পিসের চাহিদা নারীদের কাছে বরাবরই বেশি। এবছর দেশীয় ফ্যাশন হাউজের থ্রি-পিস পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে ভারতীয় থ্রি-পিসের আধিপত্য থাকলেও এবছর কমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বেশিরভাগ নারীই প্রচলিত থ্রি-পিস পরতে আগ্রহী। এবছর নারীদের আগ্রহের তালিকায় রয়েছে দেশি ফ্যাশন হাউজের থ্রি-পিস। এ সকল পোষাকগুলোর মধ্যে মাঝামাঝি দামের পোষাকগুলোর বিক্রি বেশি বলে জানান বিক্রেতারা। বুধবার সরেজমিনে যশোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি, এইচ এমএম রোড, মুজিব সড়ক, কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট, পৌর হকার্স মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানের বিপণিবিতান ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা বলেন, এবার দেশিও ফ্যাশন হাউজের থ্রি পিসের চাহিদা বেশি। কারন হিসেবে, ভিসা বন্ধা থাকায় ভারতীয় পোশাকের আধিক্য কমেছে। এয়ার ফেয়ার ও ট্যাক্স দিয়ে প্রতি কেজি পণ্য আমদানিতে খরচ হয় এক হাজার ২০০ টাকা। এ কারনে ভারতীয় পোশাকের দাম ২/৩ গুন বেড়ে যায়। শহরের গোবিন্দ স্টোরের প্রোপাইটর অসিত কুমার সাহা বলেন, ১০ বোজার পরে ঈদ বাজারে বিক্রি বেড়েছে। এবছর দেশীয় ফ্যাশন হাউজের থ্রি-পিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। কাপুড়িয়াপট্টি রোডের দেখা ফ্যাশনের প্রোপাইটর মান্না দে লিটু বলেন, থ্রি-পিসের মধ্যে মাঝামাঝি দামের পোষাকগুলোর বিক্রি বেশি। মর্জিনা আখতার নামের নারী ক্রেতা বলেন, দেশি ফ্যাশন হাউজের থ্রি-পিস এক কথায় অসাধারণ। এ বছর প্রস্তুতকারকরা নানা ডিজাইনের কাজ করায় আরও বেশি ভালো লাগছে। যশোর কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মঈনউদ্দীন টেনিয়া বলেন, আমাদের মার্কেটে এখনও পর্যন্ত যা বিক্রি হচ্ছে সেটা সামগ্রিকভাবে ভালো। বিলকিস বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, পরিধান করতে স্বচ্ছন্দবোধ করায় ঈদের জন্য থ্রি-পিস কেনা। দেশীয় ফ্যাশন হাউজের পোষাকে আরামবোধের বিষয়টি রয়েছে। দেশিও ব্র্যান্ডের পাশাপাশি যশোরের বাজারে পাকিস্তানি থ্রি-পিসের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে গুলজি, জারা, গুলবানু, রাঙরসিয়া, আওয়ারলি, মেহজেবীন, ইবাদত, নওয়াব, রাখি, জেহানী, মীট, আগানূর, তায়াওক্কাল, রুহাইসাকুন, মাহাজাল, বিনসাইদ, বিনহামিদ ও আলিয়াসহ আরও কিছু পাকিস্তানী ব্র্যান্ডের কটন, সিল্ক, জর্জেট কাপড়ের থ্রি-পিস। শহরের এইচ এম এম রোডের শিউলী থ্রি পিসের দোকানের বিক্রয় কর্মী বাবু বলেন, বেশ কয়েক বছর ভারতীয় থ্রি পিসের দখলে ছিলো বাজার। এবার দেশীয় ফ্যাশন হাউজের থ্রি পিস রাজত্ব করছে। বিগত বছরগুলোতে ভারতীয় পোশাকের একক আধিপত্য থাকলেও এখন তা কমেছে। তার পরও ব্যবসায়ীরা এক শ্রেনির ক্রেতার কথা মাথায় রেখে ঈদের বাজার টার্গেট করে বিভিন্ন পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় থ্রি-পিস আমদানি করছে। যশোরের বাজারে ভারতীয় থি-পিসের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে-ঘারারা, সারারা, গাউন, আলেয়া কাট ও লেহেঙ্গা। মানভেদে ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকায় এগুলো বিক্রি হচ্ছে। একটা সারারা থ্রি-পিস ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, দেশীয় ব্র্যান্ডের আড়ং, লে-রীভ, অঞ্জনস, কে-ক্রাফট, ফড়িং, জেন্টেল পার্ক, বিশ্বরঙ, রিচম্যান, ইনফিনিটি, সেইলর, আর্ট, দর্জিবাড়ি, ইজি, উইনারসহ আরো বেশকিছু ফ্যাশন হাউজের পোষাক সববয়সী নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কেননা, এবার ঈদে ডিজাইনে বৈচিত্র্যতা, নান্দনিকতা আর দেশীয় ভাবধারার পোশাকের সমারোহ ঘটেছে ওইসব ব্র্যান্ডের হাউজগুলোতে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাকিস্তানি থ্রি-পিস ডিজাইন ভেদে ২ থেকে ৭ হাজার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া, সুতি থ্রি পিস ১ থেকে ৩ হাজার, এমব্রডায়ারি ১৫শ’ থেকে ২৫শ’, টিস্যু কাজের থ্রি পিস ২ থেকে ৫ হাজার, মসলিনের ওপর কাজ করা থ্রি পিস ৩৫শ’ থেকে ৯ হাজার, নেটের ওপর কাজের থ্রি পিস ৩ থেকে সাড়ে ৯ হাজার, সুতিব অরগেঞ্জা থ্রি পিস ২৫শ’ থেকে ৯ হাজার, সুতি বাটিক ১ থেকে ২হাজার, চুন্দ্রি সিল্ক বাটিক ১৫শ’ থেকে ২ হাজার, সাদাবাহার, পাকিস্তানি কাজের থ্রিপিচ ১৫ শ” থেকে ৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ৩ থেতে ১০ হাজার টাকায়।