শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালি গ্রামের পিলের রাস্তা এলাকায় নির্বাচনের পরবর্তী একটি মারামারি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার অভিযোগ তুলে যুবদল কর্মী আরিফুল ইসলাম মাসুমকে জামায়াতের কতিপয় নেতাকর্মী হাতুড়ি লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার ১০ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। ১ মার্চ রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা খুড়িয়াখালী ও সোনাতলা গ্রামের পিলের রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকার কতিপয় জামায়াতের নেতাকর্মী স্থানীয় বিএনপি’র ১০/১২ জন নেতাকর্মীকে নির্বাচন সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে । ওই ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে যুবদল কর্মী আরিফুল ইসলাম মাসুমের ভাতিজা ছাত্রদল কর্মী সাগর হাওলাদার। পরে সাগর ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলে তা শেয়ার করে আরিফুল ইসলাম মাসুম। এ ঘটনাকে পুঁজি করে ১ মার্চ রাতে মাসুম তার শ্বশুর ডালিম খানের বাড়ি বেড়াতে আসলে সেখান থেকে ফেরার পথে স্থানীয় জামায়াত নেতা বারেক শরীফ, আফজাল, রাসেল ও মিজানের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের জামায়াত ও শিবিরের সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসী দল আরিফুল ইসলাম মাসুমের উপর লোহার রোড, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এছাড়া ৮/৯ জন সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তার বুকের উপরে লাথি মারে এতে তিনি বুকে ব্যাপক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ সময় স্থানীয়রা ছুটে আসলে ওই সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অক্সিজেন দিয়ে তাকে কিছুটা সুস্থ করার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলাম জানায় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন এর ১০ মিনিট পর হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে মাসুম। এবিষয় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে আরিফুল ইসলাম মাসুম মারা যায় ধারণা করা হচ্ছে তিনি শরীরের মধ্যে কোথাও গুরুতর আঘাত লাগার কারণে মৃত্যুবরণ করেছে তবে ময়নাতদন্তে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহীদুল আলম লিটন সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এছাড়া আরিফুল ইসলামের মা, স্ত্রী ভাই ও আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তার স্ত্রী ও মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘটনা শুনে বাগেরহাট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফ উল্লাহ শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন। এ ঘটনায় ওই রাতে জামাতের তিন নেতাকর্মীকে শরণখোলা থানা পুলিশ আটক করে। আটকৃত হল উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালি খালি গ্রামের জামায়াত নেতা মোঃ খলিল বয়াতি, তানজের আলী, ও শাহজালাল। এ ঘটনায় আরিফুল ইসলাম মাসুমের মেজ ভাই শহিদুল হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামীনুল হক বলেন, ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই রাতে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। হত্যার ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন মাসুমের মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ময়না তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনায় শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে শরণখোলা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন ও সাউথখালি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন বলেন- নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে জামাতপন্থীরা সন্ত্রাসী স্টাইলে বিএনপির কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে আসছে ওই সকল ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে আটক করেনি। এ সকল ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হলে আজকে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা দেখতে হতো না। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির ও সাউথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোঃ মোশারফ হোসাইন বলেন, সাউথখালীর ঘটনায় যুবদলের যে কর্মী মারা গেছে তাতে জামায়াতে ইসলামীর যাদেরকে জড়ানো হয়েছে তারা আদৌ জড়িত নয়।