ফরহাদ খান, নড়াইল : নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে বাবা-ছেলেসহ চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইপক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় দুইপক্ষের আসামির সংখ্যা ১২৩জন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬৫ জন আসামি করা হয়েছে। এদিকে, বাবা-ছেলেসহ তিনজন হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের ১২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, অপরপক্ষের ওসিবুর ফকির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আসামি গ্রেফতার হয়নি। নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া জানান, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১৫ মিনিটে নিহত ওসিবুরের বাবা ওসমান ফকির বাদী হয়ে ৫৪ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, অপরপক্ষে বাবা খলিল শেখ (৭০) তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১) ও প্রতিবেশী ফেরদাউস হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৬৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৪৫মিনিটে নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে সাহরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়ার সময় সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার লোকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে বাবা খলিল শেখ ও ছেলে তাহাজ্জত শেখ এবং প্রতিবেশি ফেরদাউস হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে অভিযোগ করেন খলিল শেখ পক্ষের লোকজন। তবে খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার লোকজন অভিযোগ করেন, ওই রাতে (২৩ ফেব্রুয়ারি) খলিল শেখের লোকজন আগে ওসিবুর ফকিরকে কুপিয়ে জখম করে। নড়াইল জেলা হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ওসিবুর ফকিরদের ৭ থেকে ৮টি বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়।