অসীম মোদক, মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুরের চারজনকে লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর নামে ৪৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মানবপাচারকারী এক দম্পতি। কিন্তু তাদের ইতালিতে পাঠাতে পারেননি। বরং দফায় দফায় আরো টাকা নিয়েছে। উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের মতিলালপুর গ্রামের মিন্টু, মোহাম্মদ আলী, হুমায়ুন কবির ও আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে একই উপজেলার বাগানমাঠ গ্রামের মানবপাচারকারী বাহাউদ্দীন ও তার স্ত্রী আখি খাতুন এ টাকা বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। আশরাফুল ইসলামের মা অপেরা খাতুন জানান-টাকা পরিশোধের পর মিন্টু, মোহাম্মদ আলী, হুমায়ুন কবির ও আশরাফুলকে লিবিয়ার সাগর পাড়ে নিয়ে বাহাউদ্দীন ও তার স্ত্রী আখি খাতুন লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের কাছে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়া হয়। এর কয়েক দিন পর তাদেরকে মারপিটের ভিডিও পরিবারের কাছে দেখিয়ে আবারও লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের কাছে বন্দী মিন্টু,মোহাম্মদ আলী , হুমায়ুন কবির ও আশরাফুল ইসলামের পরিবারের কাছে থেকে তাদেরকে মুক্ত করতে আবারও নেয়া হয় প্রত্যেকের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা করে। কিন্তু তার পরও তাদের লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানো হয়নি। তিনি আরো বলেন, এর কিছুদিন পর বিমান ভাড়া দিয়ে মিন্টু, মোহাম্মদ আলী, হুমায়ুন কবির দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও টাকার অভাবে আমার ছেলে আশরাফুল ইসলামকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। লিবিয়া ফেরত মিন্টুর পিতা নজরুল ইসলাম জানান, আমার ছেলেসহ ৩ জন দেশে ফিরে আমাদের টাকা ফেরত চাইতে গেলে মানব পাচারকারী বাহাউদ্দীন টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেখানো হচ্ছে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে মানব পাচারকারী বাহাউদ্দীন ও তার স্ত্রী আখি খাতুনকে আসামি করে মহেশপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিবিয়া ফেরত মোহাম্মদ আলীর পিতা নুর ইসলাম জানান, আমি বা আমার প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম, নুর ইসলাম, অপেরা খাতুন যখন লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর জন্য বাগানমাঠ গ্রামের মানব পাচারকারী বাহাউদ্দীন ও তার স্ত্রী আখি খাতুন বিভিন্ন সময় ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র জাবেদ ভ্যারাটি স্টোর নামে ৩ লাখ তারিখ ৬/৬/২০২৪, ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র রুস্তম আলী নামে ৫ লাখ ২৬/৬/২০২৪ তারিখ, ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ রুস্তম আলী নামে ২ লাখ ১০/৬/২০২৪ তারিখ, ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র আখি খাতুনের নামে ২ লাখ ৬/৬/২০২৪ তারিখ, ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র রুস্তম আলী ৫ লাখ ১০/৬/২০২৪ তারিখ, ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র রুস্তম আলী ৫ লাখ ৭০ হাজার ৬/৬/২০২৪ তারিখ, ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র জাবেদ ভ্যারাটি স্টোর ২ লাখ ৬/৬/২০২৪, ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র রুস্তম আলী ১ লাখ ৫০ হাজার ১০/৬/২০২৪ তারিখ, ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র রুস্তম আলী ৩ লাখ ৫০ হাজার ১০/৬/২০২৪ তারিখ, এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র রুস্তম আলী ৪ লাখ ৬/৬/২০২৪ তারিখ, এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষক ভাই এ্যাগ্র রুস্তম আলী ৫ লাখ ৭০ হাজার ৬/৬/২০২৪ তারিখে মোট ৪৪ লাখ টাকা গ্রহণ করে। মানবপাচারকারী বাগান মাঠ গ্রামের বাহাউদ্দীন বিভিন্ন সময় টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, লিবিয়ার এক দালাল আমার সব টাকা মেরে দেয়ার কারণে আজ আমি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে এসেছি। টাকা ফেরতের বিষয় জানতে চাইলে মানবপাচারকারী বাহাউদ্দীন বলেন-আমি এই মুহূর্তে টাকা কোথায় পাবো? মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মনির হোসেন জানান, আমি অভিযোগটি পেয়ে আসামীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে টাকার বিনিময়ে লিবিয়া থেকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তাদের টাকা ফেরত দেয়ার কোন উদ্যোগী খুঁজে পাচ্ছিনা। তার পরও চেষ্টা করে দেখা হচ্ছে।