নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে “দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম,খতিব, মোয়াজ্জেম,আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সমাজের সচেতন প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার সকাল ১০টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মজুমদার। তিনি বলেন,যাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এটি সঠিকভাবে আদায় ও বণ্টন করা গেলে সমাজে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
তিনি ইমাম-খতিব ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে যাকাত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিত্তবানদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিকল্পিত ও বুদ্ধিমূলক যাকাত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যশোরের উপ-পরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম। স্বাগত বক্তব্যও তিনি প্রদান করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ শাহ আলম, ইমাম, বায়তুস সালাম জামে মসজিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের মাস্টার ট্রেইনার মোহাম্মদ আশরাফ আলী।
সেমিনারে যাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ে আলোচনা করেন মাওলানা হাফেজ মো. সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যক্ষ, যশোর আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন এবিএম রফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি রেলগেট জামে মসজিদ ও সদস্য জেলা মডেল মসজিদ, যশোর; ফকির আক্তারুল আলম, সাবেক রিজিওনাল হেড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, খুলনা বিভাগ; মাওলানা রুহুল আমিন, ইমাম ও খতিব, নীলগঞ্জ জামে মসজিদ এবং মুহতামিম, দড়াটানা মাদ্রাসা, যশোর।
বক্তারা বলেন, যাকাত কেবল দান নয়; এটি একটি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অসহায়, দরিদ্র, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা সহায়তাপ্রার্থী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। এ লক্ষ্যে মসজিদভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিত্তবানদের কাছ থেকে যাকাত সংগ্রহ এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে সুষ্ঠু বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মইনুদ্দীন, ইমাম ও খতিব, জেলা মডেল মসজিদ, যশোর।