নিজস্ব প্রতিবেদক,মহেশপুর : পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে আর মাত্র দু’দিন বাকি। এরই মধ্যে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার প্রধান বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ছে। বিশেষ করে ছোলা, ডাল, চিনি, পেঁয়াজ ও খেজুরের দোকানগুলোতে কেনাবেচা চলছে জম জমাট ভাবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানকে সামনে রেখে এবার অধিকাংশ পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু কিছু পণ্যের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলা ও ডালজাতীয় পণ্যের দামে বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। বর্তমানে বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৭২ থেকে ৮২ টাকায়।
একইভাবে খেসারি ডালের দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্বাচনী কার্যক্রমের কারণে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় পাইকারি দামে প্রভাব পড়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
মহেশপুর বাজারের খুচরা বিক্রেতা আব্দুল আলীম বলেন,সরবরাহে ঘাটতি নেই, তবে পাইকারি দামে সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে খেজুরের বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। আমদানি বাড়ায় গত বছরের তুলনায় পাইকারি পর্যায়ে দাম কমেছে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ। মানভেদে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ টাকায়। মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার খেজুরের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মহেশপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বাবু বলেন, দেশে এখন পেঁয়াজের মৌসুম চলছে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে পেঁয়াজের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে কেজি প্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়।
তবে চিনির বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে আগের তুলনায় বেশি দামে।
বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, রমজানের আগে দাম না বাড়লে স্বস্তি পাওয়া যেত। যদিও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় পণ্য সংকটের আশঙ্কা নেই, তবুও দামের ঊর্ধ্বগতিতে নিন্ম ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান শুরুর পর প্রথম সপ্তাহে বেচাকেনা আরও বাড়তে পারে। তবে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।