নিজস্ব প্রতিবেদক : মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিসভা সোমবার সকালে কালেক্টরেট সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর অর্থাৎ রাত ১২টা ১ মিনিটে সরকারি এম এম কলেজ ক্যাম্পাসস্থ শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হবে। এছাড়া সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। যেহেতু এবার পবিত্র রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে, তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব নির্ধারিত সময়ে এম এম কলেজ ক্যাম্পাসস্থ শহিদ মিনারে বা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারে, সে বিষয়ে সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে সকাল ১১টায় কালেক্টরেট সভা কক্ষ অমিত্রাক্ষরে এক বিশেষ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোর জেলা কার্যালয়। দড়াটানা ভৈরব চত্বর মোড়ে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করবে জেলা তথ্য অফিস। ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত করে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা বাদ জোহর সকল মসজিদে ও বিশেষ প্রার্থনা সকল মন্দির গীর্জায়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন- ভাষা শহিদদের স্মারণে শহিদ মিনারে ফুল দেয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটা জাতির জন্য দুঃখজনক। এবার যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, এজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। সকলে যাতে সুন্দর ভাবে ফুল দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে। জাতীয় কর্মসূচির সাথে সংহতি রেখে যশোর শহিদ দিবস উদযাপন করা হবে।
এম এম কলেজের শহিদ মিনারে ২১ ফেব্রুয়ারি ফুল দেয়ার জন্য প্রস্তুত করা হবে বলে জানান সহযোগী অধ্যাপক মুকুল হায়দার।
পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন- সরকারি এমএম কলেজের শহিদ ফুলদিতে আসতে কারো সমস্যা না হয়, সেজন্য কলেজের দক্ষিণ গেটের সামনের রাস্তা চলাচলের উপযোগী করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুজন সরকারের পরিচালনায় প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাবেক সহসভাপতি নুর ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী,গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন, জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোদাচ্ছের হোসেন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস প্রমুখ।