শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল : গেলো ২০২৫ সালে যশোর রিজিয়নের বিজিবি সদস্যরা সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৮০ আসামিসহ ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার ৬২০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল আটক করেছে। বেনাপোলে’ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী। প্রেস ব্রিফিংয়ে লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মায়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই বিশাল সীমান্তের মধ্যে যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা কুষ্টিয়া থেকে সাতক্ষীরার সুন্দরবন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। এই বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি যশোর রিজিয়নের কুষ্টিয়া ও খুলনা সেক্টরের অধীনে সাতটি ব্যাটালিয়ন চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে যশোর রিজিয়নের অভিযানে ৩৮০ জন আসামিসহ ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার ৬২০ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি মালামাল আটক করা সম্ভব হয়েছে। যশোর রিজিয়নের অভিযানে উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৫৮.৪৯৩৪৮ কেজি স্বর্ণ, ১২৪.১২ কেজি রৌপ্য, ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি। একইসাথে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে একই বছরে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ২৮ হাজার ৩৯৩ বোতল মদ, ৩৭.৫৩৯৩ গ্রাম হেরোইন, ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭৩ পিস ইয়াবা, ৪৯ হাজার ৮৮ বোতল ফেনসিডিল, ১ হাজার ৬৭৭.৪৬৪ কেজি গাঁজা এবং ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৬ পিস বিভিন্ন ধরনের মেডিসিন জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালে কেবল যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৫ জন আসামিসহ ৮২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে ২৩.২৫৯৪ কেজি স্বর্ণ, ৭০ কেজি ৫০০ গ্রাম রৌপ্য, দুটি পিস্তল, ১০০ রাউন্ড গুলি, ৪০ হাজার মার্কিন ডলার ও ১ লাখ ১০ হাজার সৌদি রিয়ালসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্যসামগ্রী রয়েছে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে ২ হাজার ৬৭৪ বোতল মদ, ৫০০ গ্রাম হেরোইন, ৪ হাজার ২৭ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ২৬০ বোতল ফেন্সিডিল, ৩৫৯ কেজি গাঁজা ও ৬৬ হাজার ১৪৭ পিস বিভিন্ন ধরনের মেডিসিন জব্দ করা হয়। এসব অভিযানে ৬০ জন আসামিকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের বাজারমূল্য ৩ কোটি ২৭ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৫ টাকা। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবি অধিনায়ক বলেন- “এই বিশাল চ্যালেঞ্জ এককভাবে মোকাবিলা করা বিজিবির পক্ষে কঠিন। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে দেশ সুরক্ষিত থাকবে-এই বিশ্বাস থেকেই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”