Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

গোয়েন্দা সংস্থার অপব্যবহার বন্ধে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা : গুম কমিশনের প্রধান

এখন সময়: বুধবার, ৭ জানুয়ারি , ২০২৬, ০২:৩৭:৩০ পিএম

স্পন্দন ডেস্ক : বিগত সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর যেসব কর্মকর্তা ডেপুটেশনে র‌্যাব, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মতো সংস্থায় কাজ করেছেন, তাদের ‘বেশিরভাগই গুম ও চাঁদাবাজিতে’ জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের গুম সংক্রান্ত কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী।
বিগত আমলে এসব সংস্থাকে ‘মিসইউজ’ করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, এসব বন্ধে দরকার ‘দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা’।
আগের সরকারের সময়ের গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত এ কমিশন রোববার প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সোমবার এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কমিশন প্রধান।
তিনি বলেন, ডেপুটেশনে র‌্যাব বা গোয়েন্দা সংস্থায় যাওয়া সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের ‘গুম-চাঁদাবাজিতে’ জড়ানোর বিষয়টি তাদের মূল বাহিনী জানলেও ‘কিছু করার ছিল না’।
“যখন আর্মির কোনো অফিসার র‌্যাবে এসে কাজ করে, তখন সে আর্মির কমান্ডের বাইরে থাকে। আর্মি কিন্তু কোনো পিউনিটিভ (শাস্তিমূলক) অ্যাকশন নিতে পারে না। আর ডিজিএফআই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দায়বদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী থাকেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। সুতরাং আর্মির কমান্ড কিছু করতে পারে না।
“তবে আর্মির হাইকমান্ড অবগত না থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু তারা অ্যাকশন নিতে পারত না। আর্মি অ্যাজ আ ফোর্স গুমে যুক্ত ছিল না। কিন্তু আর্মির যেসব অফিসার বা এয়ারফোর্স বা নেভির যেসব অফিসার ডেপুটেশনে র‌্যাবে, এনএসআইতে ও ডিজিএফআইতে ছিল, তাদের বেশিরভাগেরই গুম ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ততা পাওয়া গেছে। সেজন্য আমরা বলেছি সমস্ত সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে আর্মড ফোর্সকে উইথড্র করার জন্য।”
কমিশন প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্তর সুপারিশ করেছে। ডিজিএফআইর বিষয়ে কমিশনের সুপারিশ কী জানতে চাইলে মইনুল ইসলাম বলেন, “আমরা বলেছি গোয়েন্দা সংস্থা থাকতে হবে, তবে সংস্কার করতে হবে। এবং ওদের যে এসওপি আছে ওটাও চেইঞ্জ করতে হবে।
“আমরা সাজেস্ট করছি, ডিজিএফআই, এনএসআই ওদের যাতে রিফর্ম করা হয়। ওরা যাতে ওদের কাজ ছেড়ে অন্য কাজ না করে। ব্যাংক দখল যাতে না করে, মিডিয়া হাউজে দখলে না যায়, ইন্টারনাল পলিটিক্সে যাতে নাক না গলায়ুএগুলো করতে হবে। তার জন্য স্ট্রং পলিটিক্যাল উইল লাগবে। নেক্সট গভার্নমেন্ট এলে বোঝা যাবে তাদের কী ইচ্ছা।”
সামনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখতে পাচ্ছেন কি না প্রশ্ন করা হলে কমিশন প্রধান বলেন, “ওই সম্পর্কে নো কমেন্ট, এটা আপনারাই দেখতে পারবেন।”
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রত্যাশা নিয়ে কমিশনের সদস্য নূর খান সংবাদ সম্মেলন শেষে বলেন, “প্রশ্ন এসেছে আমাদের দিক থেকে রাজনৈতিক দলের প্রতি কোনো আহ্বান আছে কি না। একজন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই একটা আহ্বান থাকবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর কোনোভাবেই না ঘটে।
“ভবিষ্যতে অন্তত একটি ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো যাতে একমত হয় যে বিচারবহির্ভূত কোনো ঘটনা ঘটবে না, গুমকে কেউ প্রশ্রয় দেবে না। গুম সংক্রান্ত যে আইনটা আছে সেটার প্রয়োগ খুব কঠোরভাবে আমরা দেখতে চাই।”
কমিশনের সুপারিশ
কমিশন প্রধান বলেন, নিখোঁজদের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য ‘ক্রাইম সিন’, ‘পিক-আপ প্লেস’ (যেখান থেকে ধরে নেওয়া হয়), ‘আয়নাঘর’ ও ‘ডাম্পিং প্লেস’ পরিদর্শন করেছে।
“মুন্সীগঞ্জে একটি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের কবরস্থান পাওয়া গেছে যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের দাফন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি প্রমাণিত যে দাফনকৃত লাশের মাথায় গুলি এবং দুই হাত পিছমোড়া করে বাধা অবস্থায় ছিল।
“এছাড়া বরিশালের বলেশ্বর নদীতে এবং বরগুনার পাথরঘাটায় ডাম্পিং প্লেসের সন্ধান পাওয়া গেছে। বরিশালে দুটি দেহ উত্তোলন ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কমিশন এ কাজের সূচনা করে এবং অজ্ঞাত মরদেহের ছবি ব্যবহারে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে।”
মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কমিশন অজ্ঞাত ও বেওয়ারিশ মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি ব্যাপক ডিএনএ ডেটাবেজ গঠনের সুপারিশ করেছে।
কমিশনের সুপারিশের মধ্যে র‌্যাব বিলুপ্তি, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধন, সমাজভিত্তিক প্রতিরোধমূলক সন্ত্রাসবিরোধী নীতি প্রণয়ন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন-২০০৩-এর ১৩ ধারা বাতিল, সকল বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং সত্য, স্মৃতি ও জবাবদিহির প্রতীক হিসেবে ‘আয়নাঘর’গুলোকে জাদুঘরে রূপান্তর করার কথা রয়েছে।
গুমের শিকার ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ জানিয়ে কমিশন প্রধান বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি গুমের শিকার হয়ে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে, অন্তত তাদের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু আমরা পাইনি। এখনো আইসিটির তদন্ত দল এটা তদন্ত করলে আমরা জানতে পারি।”
নিখোঁজ এই ২৫১ জন কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী রেজিমের বিরোধী রাজনৈতিক দলের ছিলেন। প্রধানত বিএনপি ও জামায়াত বা তাদের অঙ্গ সংগঠনের। আরেকটা প্যাটার্ন ছিল প্রতিটা সাধারণ নির্বাচনের আগে গুম ম্যাসিভ স্কেলে শুরু হয়েছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর নির্বাচনগুলোর আগে এ ঘটনা ঘটেছে।”
‘গণতন্ত্রহীনতার সঙ্গে গুম হওয়ার’ কোনো সম্পর্ক কমিশন পেয়েছে কি না প্রশ্ন করলে মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “অবশ্যই। সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন, এমনকি ব্যাপক আকারে গুমের মত কৌশল প্রয়োগ করে হলেও। এটা একদম পরিষ্কার, এটা অস্বীকার করা যাবে না।”

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)