কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খাঁনের অফিস দুই দিনের মধ্যে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকাল ৫ টা ১৫ মিনিটে ভবনের মালিক মনিরুজ্জামান বাবলুকে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক বিল্লাল হোসেনসহ তার লোকজন এ হুমকি দেয়। বিল্লাল হোসেন কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন চাঁচড়া মাঠপাড়ার আজহার মন্ডলের ছেলে। ওইদিন বিল্লাল হোসেন তার লোকজন নিয়ে অফিসে গিয়ে কথা বলছিল এমন একটি ভিডিও চিত্র দেখা গেছে ।

হুমকি বা অফিস ছাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘর মালিক আমার বন্ধু হয়। একসাথে বিএনপির দল করেছি। ওইদিন তার অফিসে কাজে গিয়েছিলাম। বাড়তি চেয়ার টেবিল দেখে জিঞ্জাসা করাতে বলেছিল রাশেদ খানের অফিস হবে। আমি বলেছিলাম অফিস হলে অনেক সময় ঝঞ্ঝাট ঝামেলা হয়। এ ছাড়া বাড়তি কোন কথা বলিনি বলে জানান তিনি।
জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপির দলীয় প্রার্থী রাশেদ খাঁন কালীগঞ্জ শহরের কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া টিভিএস শোরুমের ওই বিল্ডিংএ অফিস ভাড়া নেন। গত কয়েকদিন ধরে অফিস গুছানোর কাজ চলছিল। এখনো অফিস ব্যবহার করেননি রাশেদ খাঁন। গণ অধিকার পরিষদ থেকে রাশেদ খান গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব ঝিনাইদহ-৪ এ মো. রাশেদ খানকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করবেন বলে ঘোষণা দেন।
এদিকে রাশেদ খাঁনকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। তিনি এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। বিএনপি থেকে স্থানীয় কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় ক্ষোভ আর হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভও করেন। এবং সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দেন।
রাশেদ খাঁনের ভাড়া অফিসের বিল্ডিং এর মালিক মনিরুজ্জামান বাবলু বলেন, এটা হুমকি বলা যায় না। বিল্লাল আমি আমরা সবাই একসাথে বিএনপি করি। বিল্লাল বলছিল, আমরা একসাথে দল করি, রাশেদের ঝামেলা এখানে না আনাই ভালো। আমরা এখানে মিলেমিশে দল করছি, ভালো আছি। রাশেদ অন্য কোথাও অফিস ভাড়া নিক।
রাশেদ খাঁন জানান, বিষয়টি জেনেছি। যারা অফিস না নেয়ার জন্য বলছে, তারাও বিএনপির নেতা-কর্মী। আমাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়াররম্যান তারেক রহমান মনোনয়ন দিয়ে পাঠিয়েছেন। তাছাড়া এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ভাই আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে লেখাপড়া করেছি। এখন যদি তার কোন চাওয়া বা অভিযোগ থাকে দলের উচ্চ পর্যায়ে জানাতে পারেন। বিষয়টি তারা দেখবেন এবং সমাধান করবেন। আমরা দেশ ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। তবে কেউ শত্রুতা করতে থাকলে সুস্থ্য গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।