নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের ভবদহের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুর্নবাসনের দাবিতে সমাবেশ করেছে ভবদহ আমডাঙ্গা সংস্কার আন্দোলন। সোমবার বিকেলে ভবদহ মহাবিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর-অভয়নগর সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনিত প্রার্থী ও যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল।
তিনি বলেন, ভবদহের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা শুধু একটি ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি মানুষের জীবন জীবিকার সঙ্গে জড়িত। অতীতের সরকারগুলো ভবদহ নিয়ে শুধু প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করেছে, কিন্তু বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ভবদহকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। বিগত সরকারের নেতাকর্মীরা ভবদহকে সোনার ডিমপাড়া হাঁস বানিয়ে রেখেছিলো। আমরা নির্বাচিত হলে ভবদহবাসীর আর আন্দোলন করা লাগবে না। জীবন দেয়া লাগবে না, রক্ত দেওয়া লাগবে না। পরিকল্পিত ও স্থায়ী সমাধান করবো। এ সময় বিগত সরকারের সময় ভবদহ প্রকল্পের নামে লুটপাটকারীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, ভবদহবাসী ত্রাণ চায় না। ভবদহের অভিশাপ থেকে মুক্তি চায়। বিগত সরকারের নেতা ও আমলারা সমস্যা সমাধানের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। তাদের লুটপাটে ভবদহবাসী মানবতার জীবনযাপন করছে। ভবদহের দুর্ভোগ কেবল যশোর নয়, সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনে স্থায়ী প্রভাব ফেলছে। বিগত সরকারের ব্যর্থতার কারণে জনগণ আজ দুর্ভোগে জর্জরিত। এই ভবদহ দুনীর্তিবাজদের কাছে নিরাপদ নয়। জামায়াত ক্ষমতা গেলে ভবদহকে নিরাপদ জনপদে গড়তে কাজ করবে।
ভবদহ আমডাঙ্গা সংস্কার আন্দোলন ও কেশবপুরের সুফলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম মঞ্জুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের জামায়াত মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী, জেলা জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, ভবদহ আন্দোলন কমিটির নেতা আবুল হাশিম রেজা, উপজেলা আমির ফজলুল হক, অধ্যক্ষ মশিউর রহমান, অধ্যাপক মাওলানা খলিলুর রহমান, প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, অধ্যক্ষক সরদার শরীফ হোসেন, আশিকুজ্জামান, জগদিশ চন্দ্র, আবু তালহা, মনোরঞ্জন মন্ডল, রজব আলী ফারাজী, তাজমিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট ওয়াজিউর রহমান,লিয়াকত আলী, মশিউর রহমান, প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ভবদহ আমডাঙ্গা সংস্কার আন্দোলনের সেক্রেটারি মাওলানা লিয়াকত আলী।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ভবদহ অঞ্চল যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত। এই এলাকার পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর মাধ্যমে। তবে পলি পড়ে নদীগুলো নাব্যতা হারানোয় চারদশকের বেশি সময় ধরে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এতে বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় ভুগছে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ। এখনও ভবদহ এলাকায় প্রতিটি বাড়িতে হাঁটু সমান পানি। ডুবে আছে ঘরবাড়ি, ফসলি মাঠ, ঘের, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
সমাবেশে ভবদহ অঞ্চলের তিন সংসদীয় আসনের জামায়াতে মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হলে ভবদহ স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় ভবদহ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছাড়াও ভবদহ পাড়ের ক্ষতিগ্রস্তরা অংশ নেয়।