চক্রান্তে ভয় করি না : প্রধানমন্ত্রী

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২১ মে , ২০২৪, ০২:৫১:০১ এম

স্পন্দন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত সব সময় থাকে, ওসবে ভয় করি না। গ্রেনেড, গুলি, বোমা সবকিছু মোকাবিলা করেই এ পর্যন্ত এসেছি। সারা দেশের মানুষ আমার পরিবার। নির্বাচন নিয়ে চিন্তা নেই। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগেরও কারণ নেই। কারণ সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন আছে।

বুধবার সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। বারবার প্রাণনাশের চেষ্টা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুলেট ও বোমার মুখোমুখি হয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটি কাজ দিয়েছেন এবং কাজটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে রক্ষা করবেন। আমাকে রক্ষা করতে উপরে আল্লাহ্ আছেন আর মাঠে আমার দলের নেতাকর্মীরা আছেন। যখনই আমার ওপর কোনো হামলা হয়, আমার দলের লোকেরা সবসময় আমাকে রক্ষা করে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের লোকেরা তাদের জীবনের বিনিময়ে মানব-ঢাল বানিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছেন। আমি জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি- এটাই বড় কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসীকে উন্নত ও সুন্দর জীবন দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষে তাঁর সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমি জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সব কিছু করছি।

টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের জনগণকে বারবার তাঁকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি আপনজনদের হারানোর পরে দেশের মানুষ এবং আমার দলের নেতাকর্মীরাই আমার স্বজন। কাছের মানুষগুলো আমার পাশে না থাকলে সফল হওয়া সম্ভব হতো না।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও খাদ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনুন। আমাদের নিজেদের খাদ্য নিজেদেরই উৎপাদন করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সারা বিশ্বেই জিনিসপত্রের দাম বেশি। তাই বিভিন্নভাবে সবাইকে উৎপাদনমুখী হতে হবে। আমাদের সৌভাগ্য যে আমাদের মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং আমাদের মানুষগুলো দক্ষ। যে কারণে আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে খাদ্য উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় ঢাকা-ভাঙ্গা রেল সংযোগের উদ্বোধন করেন এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার পর টুঙ্গিপাড়া যান। ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। টুঙ্গিপাড়ায় রাত কাটিয়ে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।