পেঁয়াজ আমদানি শুরু

প্রথম দিন ২ লাখ ৮০ হাজার ৮শ’ টন আমদানির অনুমতি, কমছে দাম

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৫ জুন , ২০২৪, ০১:৪৯:৪৩ এম

 স্পন্দন ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়ে গেছে। আমদানির ঘোষণার পরপরই সোমবার যশোরের বেনাপোল বন্দর, সাতক্ষীরার ভোমরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। আর আমদানির খবরে বিভিন্নস্থানে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। প্রথমদিনে ২ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টন পেঁয়াজ  আমাদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বেনাপোল 

সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় সময় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে ৩টি ট্রাকে ৭৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পেঁয়াজের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার জারিফ এন্টারপ্রাইজ। বন্দর থেকে পণ্যটির ছাড় করানোর জন্য বেনাপোল কাস্টমসে কাগজপত্র দাখিল করছেন মেসার্স রয়েল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্ট।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, চলতি বছরের ১৬ মার্চ থেকে পেয়াজ আমদানি বন্ধ হয়েছিলো। তবে দেশে চাহিদার বিপরীতে আমদানি ও পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মূল্য বৃদ্ধি করছিলো। এতে নি¤œ আয়ের মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় এ খাদ্যদ্রব্যটি কিনতে গুনতে হচ্ছিল অতিরিক্ত টাকা। অবশেষে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রনে পরিকল্পনা করে আমদানির।

বেনাপোল স্থলবন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী  হেমন্ত কুমার সরকার জানান, সরকার পেঁয়াজ আমদানির ছাড়পত্র প্রদান করায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য ছাড় করাতে পারে তার সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

এদিকে পেঁয়াজ আমদানির  খবরে দাম কমতে শুরু করেছে। যে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা ছিলো তা ৭০ টাকায় নেমে এসেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে।

এদিকে আমদানিকারকের প্রতিনিধির কাছে পেয়াজ আমদানিতে কেজি প্রতি কতো ডলারে ক্রয় করা হয়েছে এবং কতো টাকায় বিক্রি করা হবে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের কোন তথ্য দিতে রাজি হননি।

কৃষি মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বা আইপি আবেদন অনুমোদন করা শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রথম দিনেই ২১০টি আইপি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে, এতে পেঁয়াজের পরিমাণ ২ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টন।

আমদানির অনুমতি মেলার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। 

সোনামসজিদ পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মাইনুল ইসলাম জানান, সোমবার আমদানির প্রথম দিনে এ বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৬২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

তিনি জানান, দুপুরের পর থেকে ভারতের মহদিপুর বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬ পর্যন্ত (বন্দর বন্ধ হওয়ার সময়) ৫৬টি ভারতীয় ট্রাকে ১ হাজার ৬২ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ এসেছে।

শুনেছি, ওপারে ভারতের মহদিপুর বন্দরে বেশ কিছু পেঁয়াজের ট্রাক অপেক্ষা করছে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য। আগামীকালও পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশে আসবে।

পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়।

রোববার দেশে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এরপর কৃষি মন্ত্রণালয় সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়।

কেবল সোনামসজিদ দিয়েই নয়, দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়েও ভারতীয় পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

সাতক্ষীরা :

আমদানির ঘোষণার একদিনের মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে।  

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের তথ্য কর্মকর্তা শান্ত হাওলাদার জানান, সোমবার বিকালে ৮ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে ঢুকেছে। আরও ১০ ট্রাকের মতো পেঁয়াজ ঢুকতে পারে।

কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় দেশীয় পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে গত ১৫ মার্চ থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখে সরকার। ইতোমধ্যে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। রোববার দেশে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এরপরই কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়।

 

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খাঁন জানান, প্রতি টন পেঁয়াজ ২২০ থেকে ২৫০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরার আমদারি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক সুকুমার দাস বাচ্চু জানান, তার আমদানি করা পেঁয়াজ ভরতি ট্রাক ভোমরা বন্দরের বিপরীতে ঘোজাডাঙ্গায় অবস্থান করছে। যেকোনো মুহূর্তে ওই পেঁয়াজ ভরতি ট্রাক দেশে প্রবেশ করবে।

এদিকে, আমদানির অনুমতি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে, যদিও খুচরা বাজারে তার প্রভাব এখনও দেখা যায়নি।

সোমবার সকালে খাতুনগঞ্জে ঘুরে মানভেদে পেয়াঁজ কেজিতে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। একদিন আগে রোববার সকালে কেজি প্রতি দাম ছিল ৮৫ থেকে ৮৮ টাকা, রোববার সন্ধ্যায় দর ৯০ টাকায়ও উঠেছিল।

পেঁয়াজের দর রোজার ঈদের পর থেকেই বাড়তে শুরু করেছিল। এক মাসের ব্যবধানে তা ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় উঠে যায়। গত কয়েকদিন ধরে ১০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছিল।

কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে এতদিন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি কৃষি মন্ত্রণালয় না দিলেও পরিস্থিতি দেখে রোববার সায় দেয়। তার প্রভাবই দেখা গেল খাতুনগঞ্জে।

সোমবার সকালে কিছু বেচা বিক্রি হলেও দুপুরের পর থেকে ক্রেতাশূন্যই ছিল পেয়াঁজের আড়তগুলো।