যশোরের ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু বিশেষজ্ঞ নেই!

এখন সময়: বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি , ২০২৩ ০৯:৪৪:১৬ am

বিল্লাল হোসেন : যশোরের ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু বিশেষজ্ঞ পদ আছে কিন্তু চিকিৎসক নেই। ফলে শিশুরা উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  পদ শূন্য থাকার কারণে একজনের দায়িত্ব পালন করছেন আরেকজন। রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মেডিকেল অফিসার দিয়ে শিশু রোগীদের চিকিৎসা করানো হচ্ছে। রোগীর অবস্থা সামান্য খারাপ হলেই তারা রেফার্ড করছেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। উপজেলা থেকে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে মানুষের আর্থিক ব্যয়ের সাথে দুর্ভোগ বাড়ছে। সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, শিশু বিশেষজ্ঞের শূন্য পদের তালিকা প্রতি মাসে একবার করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

 সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় মোট  ৮ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এগুলো হলো শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এরমধ্যে মণিরামপুর ও বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু জুনিয়র কনসালটেন্ট চিকিৎসক আছে। বাকি ৬ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদ শূন্য রয়েছে। অথচ সদর বাদে বাকি ৫ উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্সে হাসপাতাল কার্যক্রম চালু রয়েছে। কিন্তু শিশু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এসব শূন্য পদ পূরণে কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীত বাড়ার সাথে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ বেড়েছে।  প্রায় ঘরে ঘরে একই অবস্থা বিরাজ করছে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেনা। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। উপজেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা না পেয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে ছুটছেন জেনারেল হাসপাতালে। ফলে অন্তঃবিভাগ ও বর্হিঃবিভাগে শিশু রোগীর ভিড় আর ভিড়।

শাহিনা নামে এক নারী জানান, তার ছেলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছে। চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তাই ছেলেকে জেনারেল হাসপাতালে এসেছেন।

সেবা না পেয়ে শাহিনার মতো অনেকেই জানান, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাসপাতাল নির্মাণ করেছেন কিন্তু এটা  শিশুদের কোনও কাজেই আসছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে মেডিকেল অফিসার শিশু রোগী দেখছেন। একটু গুরুতর হলেই জেলা হাসপাতালে রেফার্ড করে দিচ্ছেন। ফলে অভিভাবকদের আর্থিক ব্যয়ের সাথে দুর্ভোগ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, শিশু বিশেষজ্ঞের অভাবে মেডিকেল অফিসার দায়সারা চিকিৎসা দিচ্ছেন। এতে শিশুরা উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, শিশু বিভাগে ঠান্ডা জনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সেবা বঞ্চিত শিশুরা এখানে আসার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের শূন্য পদ পূরণ হলে এখানে রোগীর চাপ কমে যাবে। 

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। তারপরেও শিশু রোগীদের সুবিধার্থে মেডিকেল অফিসার প্রতিনিয়ত চিকিৎসাসেবা দিয়ে চলেছেন। রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে তখন তারা জেলা হাসপাতালে রেফার্ড করে দেন।

সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, বর্তমান সময়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ফলে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অত্যন্ত জরুরি। শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রতি মাসে একবার করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। খুব শিগগির সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে তিনি আশাবাদি।