মিরাজুল কবীর টিটো: যশোর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে যত্রতত্র ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত করা হয়েছে। নিয়মিত পরিস্কার না করার ফলে দুর্গন্ধে পথচারীদের নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ঢাকার রোড কাঁঠালতলার মেইন রাস্তার ধারে ময়লা ফেলার বড় স্তুপে পরিণত করায় আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে-পৌরএলাকায় যাতে যত্রতত্র ভাবে ময়লা না ফেলা হয় এজন্য দুইদিন ধরে মাইকিং করা হয়েছে। শহর ঘরে দেখা গেছে-পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ড কাজীপাড়া, পুরাতন কসবা এলাকা। এই এলাকার ঢাকার রোড কাঁঠালতলার মেইন রোডের ধারে বড় ময়লা ফেলার স্তুপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সেখানে এনজিও কর্মীরা পৌরসভার নিয়ম অমান্য করে ময়লার ফেলে স্তূপে পরিণত করে। ময়লা ফেলার কারনে কাদায় নিমজ্জিত থাকে। পৌরসভা থেকে নিয়মিত পরিস্কার না করার ফলে অনেক দুর্গন্ধ বের হয়। এতে করে আশেপাশের বাড়ির বাসিন্দাদের দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। সেখানকার বাসিন্দা সুধীর সিংহ রায় জানান, আমাদের বাড়ির সামনে পৌরসভার ময়লা ফেলা স্থান করা হয়েছে। এখান থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ বের হয়। দুর্গন্ধের কারণে আমরা শান্তিতে খেতে ও ঘুমাতে পারি না। এখান থেকে ময়লা ফেলার জায়গা অন্য জায়গায় করার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোন লাভ হয়নি। একই কথা জানান আব্দুল হাই, আব্দুর রাজ্জাক নামে আরো দুই বাসিন্দা। শুধু কাঁঠালতলা মেইন রোডের ধারে ময়লা নয়, সম্মিলনী স্কুলের দেয়ালের ধারে, বেজপাড়া মেইন রোড (বনানী) সড়কের গলির বিপরীতে, পালবাড়ির ভাস্কর্যের মোড় থেকে আরবপুর যেতে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তার পাশে পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে, দুই নম্বর ওয়ার্ডের মেইন রাস্তার ধারে দুইটি স্থানে নিয়মিত সেখানকার মানুষ ময়লা ফেলে। অভিযোগ উঠেছে ময়লা ফেলার এসব স্থান থেকে পৌরসভা থেকে নিয়মিত ময়লা পরিস্কার করা হয় না। সোমবার বেলা ১২ টার সময়ও গিয়ে দেখা গেছে-পালবাড়ির ভাস্কর্য্যরে মোড়ের দক্ষিণ পাশে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার ময়লার স্তুপ জমে ছিল। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা পরিস্কার করতে আসেনি। এদিকে সম্মিলনী স্কুলের পূর্বপাশে দেয়ালের ধারে ময়লার স্তূপ জমে থাকে প্রতিদিন। দুর্গন্ধে সম্মিলনী স্কুল ও আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে সমস্যায় পড়ে। সেখান থেকেও ময়লা ফেলার স্থান অন্য জায়গার করার জন্য পৌরসভায় আবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। এ ব্যাপারে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু বলেন-পৌরএলাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ও ময়লা যেখানে সেখানে না ফেলার জন্য দুইদিন ধরে মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিংয়ে বলা হয়েছে যেখানেসেখানে ময়লা ফেললে শাস্তি দেয়া হবে। এলাকা ঘুরে দেখা হবে মাইকিং করাটা কতটুকু কার্যকর হয়েছে। ঢাকার রোড কাঁঠালতলার মেইন রাস্তার ধারে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন ও কনটেইনার রাখা ছিল, তাতে এলাকাবাসি ময়লা ফেলতো। এর আগের সরকারের সময় স্থানীয়রা এমপির সুপারিশে সেখানকার ডাস্টবিন ও কনটেইনার অপসারণ করায়। ডাস্টবিন ও কনটেইনার না থাকায় মাটিতে ময়লা ফেলা হয়। প্রতিদিন পরিস্কার করার পরও দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সম্মিলনী স্কুলের দেয়ালের ধারে যাতে ময়লার দুর্গন্ধ বের না হয় বা এলাকাবাসি যত্রতত্র ভাবে ময়লা ফেলাতে না পারে, এজন্য সেখানে পাকা ডাস্টবিন নির্মাণ করা হবে। তাতে এলাকাবাসি ময়লা ফেলবে, পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সেখান থেকে ময়লা পরিস্কার করবে। এতে করে তেমন দুর্গন্ধ বের হবে না। ওই জায়গা ছাড়া অন্য কোন জায়গা নেই, যেখানে ডাস্টবিন নির্মাণ করা যায়।