নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি ও জালিয়াতির দায়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টারসহ তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে যশোরের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার বিশেষ দায়রা জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস. এম. নূরুল ইসলাম এক রায়ে এ আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার ও নিয়ামতপুর গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে জুলফিকার আলম, চাঁচড়া গ্রামের মৃত আইনুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে শফি উদ্দিন এবং বলরামপুর গ্রামের মৃত মোবারক ধনীর ছেলে আব্দুল ওহাব।সাজাপ্রাপ্ত তিনজনই কারাগারে আটক আছে। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, কালীগঞ্জের পারশ্রীরামপুর গ্রামের আয়না বেগমের স্বামী জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। চাঁচড়া গ্রামের মিজানুর রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সহায়তায় জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি কাবিননামা তৈরি করে আয়না বেগমকে স্ত্রী দাবি করে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আয়না বেগম ২০১৪ সালের ৪ মার্চ জালিয়াতির অভিযোগে মিজানুর রহমানকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় তৎকালীন সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী সাজাপ্রাপ্ত তিনজনসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য যশোরের বিশেষ দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণকালে আসামি মিজানুর রহমান ও মানিক বিশ্বাসের মৃত্যু হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি জুলফিকার আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪৬৮ ধারায় তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, তিন হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪৬৯ ও ৪৭১ ধারায় দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।