ক্রীড়া প্রতিবেদক : গোলকিপারের বীরত্বে বেলজিয়ামকে রুখে দিলো ইরান আক্রমণে আধিপত্য, সুযোগের পর সুযোগ, তবু গোল নেই। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছে দুই দলের লড়াই। তবে স্কোরলাইন ০-০ হলেও ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ইরানের গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভান্দ এবং বেলজিয়ামের থিবো কোর্তোয়া। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ নেয় বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুদের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ শানায় ইউরোপের দলটি। প্রথম ১৩ মিনিটেই চারটি শট নেয় বেলজিয়াম। কিন্তু ইরানের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের প্রতিটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করে। প্রথমার্ধে সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ইরানের দিক থেকে। ২১ মিনিটে হোসেইন কানানি দুর্দান্ত এক শট নিলে অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় তা রুখে দেন থিবো কোর্তোয়া। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে বেলজিয়ামকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক। এরপর কৌশলী একটি ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠিয়েছিল ইরান। তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। ৫৩ মিনিটে আবারও ইরানের সামনে গোলের সুযোগ আসে। এবার মেহদি তারেমির জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। তবে ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত আসে ৬০ মিনিটে। বক্সের ভেতরে কয়েক দফা রিবাউন্ডের পর বল পেয়ে জোরালো শট নেন ম্যাক্সিম ডি কুইপার। গোল প্রায় নিশ্চিত মনে হলেও অবিশ্বাস্য প্রতিক্রিয়ায় বলটি হাত ছুঁইয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন আলীরেজা বেইরানভান্দ। তার সেই সেভ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বেলজিয়ামের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে ৬৬ মিনিটে। ডিফেন্ডার নাথান এনগয় বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে ভুল করেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেহদি তারেমি বলের দখল নিলে তাকে থামাতে জার্সি টেনে ধরেন এনগয়। শেষ রক্ষাকবচ হিসেবে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বেলজিয়ামকে। সুবিধা পেলেও ইরান সেটিকে জয়ে রূপ দিতে পারেনি। অন্যদিকে একজন কম নিয়েও বেলজিয়াম শেষ পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যায়। কিন্তু বেইরানভান্দের অনবদ্য গোলকিপিং এবং ইরানের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট বেলজিয়ামের আধিপত্য। পুরো ম্যাচে ২৩টি শট নেয় তারা, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান বেইরানভান্দ। একাই ৭টি সেভ করেন তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল। গ্রুপের হিসাব আরও জটিল করে দেয়া এই ফলাফলে শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াই জমে উঠেছে নতুন করে।