নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘জ্বালানি খাতকে বৈচিত্র আনবার জন্য বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছে। সোলার প্যানেলের বসানোর জন্য বর্তমান বাজেটে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রণয়ন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন- বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জ্বালানির অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা ও জ্বালানি খাত নিরাপদ করতে চাইলে জ্বালানি খাতকে বৈচিত্র আনতে হবে। জ্বালানি খাতে বৈচিত্র আনবার জন্য বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছে। সোলার প্যানেলের বসানোর জন্য বর্তমান বাজেটে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে শুধু সরকারি স্থাপনার ছাদে বা রুপটপ সোলার বসানো হবে এমনটি নয়; বেসরকারি খাতও এগিয়ে আসতে পারে। এসময় তিনি যশোর বিসিকের উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সকল নীতি সহযোগিতা করার আশ্বান দেন। অর্থনীতিক মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন-‘আমরা যতবেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে পারবো; অর্থনীতি তত গতিশীল হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। সরকার ও বেসরকারি খাত হাতে হাত ধরে এগিয়ে চলছে। আগামি পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চেহেরা পরিবর্তন হবে।’ যশোর বিসিক উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ নেই মন্তব্য করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উদ্যোক্তারা বিসিক কর্তৃপক্ষকে সার্ভিস চার্জ দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য উদ্যোক্তারা কিন্তু আপনাদের কাছ থেকে সেবা পায় না। প্রথমে জমি বরাদ্দ দিয়ে যে সেবা দেন ততটুকুই; আর কোন সেবা দেন না তাদের। সার্ভিস চার্জের নামে যে টাকাটা গ্রহন করেন সেটা নাকি খরচ করার একতিয়ার আপনাদের থাকে না। এখানে ড্রেন ব্যবস্থার অপ্রতুললতা, বর্ষা মৌসুমে ড্রেন উপচে ময়লা আর্বজনা সারা সড়কে বিস্তার ঘটে। সড়কের অবস্থাও নাজুক। বেশির ভাগ সময় আলো জ্বলে না। নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে নারীকর্মীরা কাজ করেন। প্রতিবছর এখানে অনেক প্রতিষ্ঠান অগ্নিকান্ডে উদ্যোক্তরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো এই বিসিক উদ্যোক্তাবান্ধব করবো। সেই প্রতিশ্রুত অনুযায়ী অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে এই বিসিকে ফায়ার সার্ভিসের সাব স্টেশন গড়ে তোলা হবে। এই বিষয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। শুধু যশোর না দেশে সরকার ও বেসরকারি খাত যদি হাতে হাত ধরে এগিয়ে চলে দ্রুতই দেশটা পরিবর্তন হবে।’ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, যশোর চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক তানভিরুল ইসলাম সোহান, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, দৈনিক লোক সমাজের প্রকাশক শান্তুনু ইসলাম সুমিত। এসময় বিভিন্ন উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, ৬০টি স্টলে দেশীয় উৎপাদিত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নানা পণ্য নিয়ে এই মেলা চলবে আগামি ২৮ জুন পর্যন্ত। বিসিক ও জেলা প্রশাসন যশোরের যৌথ উদ্যোগে এই মেলায় প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নানান সব রাইড।