যবিপ্রবি প্রতিনিধি: একটি বিভাগের পরিচয় শুধু তার একাডেমিক কার্যক্রম কিংবা অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও প্রাণবন্ত পরিবেশও একটি বিভাগের স্বাতন্ত্র্য বহন করে। সেই ভাবনা থেকেই যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগে আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী এক সৌন্দর্যায়ন প্রতিযোগিতা। এআইএস ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিভাগের চারটি ব্যাচ অংশ নিয়ে বিভাগকে রূপ দিয়েছে এক সবুজ, সজীব ও নান্দনিক শিক্ষাঙ্গনে। বিভাগকে আরও পরিবেশবান্ধব, দৃষ্টিনন্দন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রতিযোগিতার শুরুতে পুরো বিভাগকে চারটি অংশে বিভক্ত করা হয় এবং লটারির মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাচকে একটি করে নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা, শ্রম ও নান্দনিক চিন্তাধারার সমন্বয়ে নির্ধারিত স্থানগুলোকে সাজিয়ে তোলে নানা প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছে। ইনডোর স্থান পাওয়া ব্যাচগুলো পাথোস, স্পাইডার প্ল্যান্ট, পিস লিলি, স্নেক প্ল্যান্ট, লাকি ব্যাম্বু, এরিকা পাম ও অন্যান্য ইনডোর গাছ দিয়ে তাদের অংশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অন্যদিকে আউটডোর স্থানগুলো সেজে উঠেছে গোলাপ, বেলি, গন্ধরাজ, নয়নতারা, বাগানবিলাস, কাঠগোলাপ, শিউলি, থাই কামিনীসহ নানা ফুলের গাছে। বারান্দা, করিডোর, ব্যালকনি এবং উন্মুক্ত স্থানজুড়ে এখন ছড়িয়ে আছে সবুজের সমারোহ। এই সৌন্দর্যায়ন কার্যক্রমে দেশি-বিদেশি, মৌসুমি ও স্থায়ী মিলিয়ে অসংখ্য গাছ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জলপদ্ম, স্থলপদ্ম, আম, আঙুর, চাইনিজ মাল্টা, লেবু, মালবেরি, ড্রাগন ফ্রুট, বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস, অ্যাডেনিয়াম, বেবি টিয়ার্স, রেড হার্ট ও কন্টক গাছ। রঙ ও বৈচিত্র্যের অপূর্ব সমন্বয়ে এআইএস বিভাগ যেন পরিণত হয়েছে এক ছোট্ট সবুজ উদ্যানে। তবে এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং একটি মানসিকভাবে প্রশান্ত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও রয়েছে। বর্তমান সময়ে একাডেমিক চাপ ও ব্যস্ততার মধ্যে সবুজ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি ও ইতিবাচকতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে এ উদ্যোগ। আয়োজনটির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বিভিন্ন ব্যাচের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীরা। এআইএস সপ্তম ব্যাচের দায়িত্বে ছিলেন মুন্নি আক্তার, অষ্টম ব্যাচের নেতৃত্বে ছিলেন মো. মাহমুদুল হাসান, নবম ব্যাচের নেতৃত্ব দিয়েছেন মো. মেহেদী হাসান এবং দশম ব্যাচের কার্যক্রম সমন্বয় করেছেন শাহরিন আহমেদ সাকিব। তাদের নেতৃত্বে প্রতিটি ব্যাচ নিজস্ব পরিকল্পনা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। গাছ লাগানোর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব শেষ হয়নি। প্রতিটি ব্যাচ পৃথক পরিচর্যা কমিটি গঠন করেছে, যারা নিয়মিত গাছে পানি দেওয়া, পরিচর্যা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থান পরিবর্তনের কাজ করছে। ফলে গাছগুলো শুধু টিকে থাকছে না, বরং ধীরে ধীরে আরও বিকশিত হয়ে বিভাগের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে। অনেক শিক্ষার্থীরা মনে করেন এটি শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এক আনন্দঘন ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে যেমন দলগত সমন্বয় ও পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় হয়েছে, তেমনি প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধও বেড়েছে। কেউ গাছ সংগ্রহ করেছে, কেউ পরিকল্পনা করেছে, আবার কেউ নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি ব্যাচ নিজেদের নির্ধারিত স্থানকে সেরা করে তোলার চেষ্টা করেছে। এই উদ্যোগের ফলে এআইএস বিভাগের পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে অনেক স্থান ছিল সাধারণ ও নির্জীব, সেখানে এখন চোখে পড়ে রঙিন ফুলের সমাহার, সবুজ পাতার সৌন্দর্য এবং পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ। বিভাগে প্রবেশ করলেই অনুভূত হয় এক ধরনের প্রশান্তি, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থী—সবার মনকেই আকৃষ্ট করছে। প্রতিযোগিতার শেষে সেরা সৌন্দর্যায়নকারী ব্যাচকে পুরস্কৃত করা হবে। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পুরস্কার নয়; বরং একটি সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব বিভাগ গড়ে তোলার সম্মিলিত প্রয়াস। এআইএস বিভাগের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, সৃজনশীলতা ও অংশগ্রহণ থাকলে একটি শিক্ষাঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত, নান্দনিক এবং পরিবেশবান্ধব করে তোলা সম্ভব।