বিল্লাল হোসেন : যশোরের চৌগাছায় স্ত্রীকে গাছে বেঁধে জুয়েল রানা (৪০) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়। দুপুর ১২ টা ২৫ মিনিটে তাকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম এই হত্যাকান্ডের নেতৃত্ব দেন। জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে। নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম জানান, জুয়েল রানা সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মুক্তদাহ মোড়ে চা খাওয়ার জন্য যান। এ সময় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে মুক্তদাহ গ্রামের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাবু, সুমন, ইদ্রিস আলী, ইদ্রিস আলীর ছেলে নাহিদসহ ৮/১০ জন হামলা চালায়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে তাকে গাছে বেঁধে রেখে দুর্বৃত্তরা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তার স্বামী জুয়েল রানাকে হত্যা করেছে। মায়া বেগমের অভিযোগ, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করা হলেও দুই ঘন্টার বেশি সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা পিটিয়ে জুয়েল রানার দুই পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে দেয়। এছাড়া তার দুই হাতে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। জুয়েল রানাকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোবাশ্বের হোসেন জানান, জুয়েল রানাকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার দুই হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। দুপুরে জুয়েলের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মনির হোসেন। এলাকাবাসী জানান, জুয়েল রানা পাতিবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লালের সমর্থক। গেলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন। হামলাকারীরাও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষ জুয়েল রানাকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, স্থানীয় মেম্বার নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে জুয়েল রানাকে হত্যা করা হয়েছে বলে শুনেছি। তাদের আটকে অভিযান চলছে। ওসি আরও জানান, খবর দেওয়ার দুই ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম সেখানে যায়। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।