Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒লবণ দিয়েও রক্ষা হলো না

রাজারহাটে চামড়া বেঁচে লোকসান মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের

এখন সময়: রবিবার, ৭ জুন , ২০২৬, ১২:১৬:৩৯ এম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রির আশায় লবনযুক্ত করে সংরক্ষণ করেছিলেন মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ঈদের এক সপ্তাহ পর শনিবার যশোরের রাজারহাট চামড়ার মোকামে এসে হতাশ হয়েছেন তারা। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি না হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের। ক্রেতাদের দাবি ট্যানারি মালিকদের নির্দেশনার কারণে মান ভেদে চামড়া কেনায় এ অবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কাঁচা চামড়া রফতানির দ্বার উন্মুক্ত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। যশোরসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ছাড়াও গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী ও নাটোরের বড় বড় পশুর চামড়া ব্যবসায়ীদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র যশোরের রাজারহাট মোকাম। পবিত্র ঈদুল আজহার পর শনিবার বসে তৃতীয় চামড়ার হাট। দূর-দূরান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ চামড়া নিয়ে হাজির হন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। চামড়া কিনতে আসেন পাইকার ও ট্যানারি প্রতিনিধিরা। তবে কাক্সিক্ষত দাম পাননি বিক্রেতারা। মান ও আকারভেদে গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩শ’ টাকা থেকে ৯শ’ টাকা পর্যন্ত। ফলে চামড়া ক্রয়, লবণ দেওয়া আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে খরচের ব্যবধান মেলাতে পারছেন না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। মোকামে আসা বাগেরহাটের ফকিরহাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিপুল বিশ্বাস বলেন, আড়াইশ’ পিস লবনযুক্ত গরুর চামড়া বিক্রি করতে এসেছি। একটু পর পর আড়ৎদাররা আসছেন; আর আমি চামড়া উল্টে পাল্টে দেখাচ্ছি। আড়ৎদাররা যে দাম বলছেন; তাতে বিক্রি করতে পারছি না। কারণ আড়তদারের দামে বিক্রি করলে প্রতি পিস চামড়ায় ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা লোকসান হবে। পাইকগাছার অসিত দাস বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের আশায় লবন দিয়ে চামড়া রেখেছিলাম। ঈদের এক সপ্তাহ পর মোকামে এসে দাম শুনে হতবাক হচ্ছি। বাড়ি বাড়ি ঘুরে চারশ’ থেকে ৮শ’ টাকা দরে প্রতি পিস চামড়া কিনেছি। প্রত্যোকটি চামড়ায় প্রায় আড়াইশ’ টাকা লবন খরচ হয়েছে। শ্রমিক ও পরিবহন খরচ তো আছেই। মোকামে পাইকাররা যে দাম বলছে, প্রতি পিসে অর্ধেক দাম নেই। বাধ্য হয়ে কম দামেই চামড়া বিক্রি করছি। মোকামের পাইকারী ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, চামড়ার মান ভেদে দাম নির্ধারণ হচ্ছে। মোকামে ভালো মানের চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে। মানহীন, নষ্ট চামড়ার দাম তো কম হবেই। যারা গড়পড়তা চামড়া কিনেছেন তারা বিপাকে পড়েছেন। বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, ট্যানারি মালিকদের নির্দেশনার কারণে সরকারি মূল্যে নয়, মান ভেদে চামড়া কিনছেন আড়তদার ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা। ফলে মানভেদে চামড়ার দামে তারতম্য আছে। এই খাতকে চাঙা করতে হলে কাঁচা চামড়া রফতানির দ্বার উম্মুক্ত করতে হবে। কাঁচা চামড়া রপ্তানি হলে দেশের বাজার চাঙা হবে। এছাড়া বিকল্প উপায় নেই। বর্তমানে কাঁচা চামড়া রপ্তানি বন্ধ থাকায় ট্যানারি মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে চামড়া খাত। প্রতিবছর কোরবানী ঈদের সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হন। আর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। এজন্য সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। রাজারহাট চামড়ার হাটের ইজারাদার রাজু আহমেদ বলেন, ঈদ পরবর্তী তিনটি হাটে ১৫ হাজার পিস চামড়া বিক্রি হয়েছে। বিপুল পরিমাণ কোরবানির চামড়া বাজারে আসেনি। অন্যান্য বছর লক্ষাধিক চামড়া হাটে ওঠে। এসব চামড়া কোথায় আছে, সেটি প্রশাসনের মনিটরিং জরুরি। নজরদারি না করলে পাচারের আশংকা রয়েছে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)