Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

বেনাপোলে যাত্রী হয়রানি বন্ধে বন্দর পরিচালকের কঠোর হুঁশিয়ারি

এখন সময়: বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬, ১২:১৭:৫৯ এম

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল : বেনাপোল স্থলবন্দরে পাসপোর্টযাত্রীদের হয়রানি ও প্রতারণা প্রতিরোধ এবং সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার সভাপতি বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপসচিব শামীম হোসেন ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন- বন্দর এলাকায় যাত্রী হয়রানি ও ছিনতাই কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ‘এতদিন স্থানীয় বাস্তবতায় কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছিল। সন্ত্রাসীদের হাত যত লম্বাই হোক, কোনো অবস্থাতেই তাদের আর যাত্রী হয়রানি বা ছিনতাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।’ এখন থেকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ সময় তিনি বন্দরের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাবেই এ বন্দর কাঙ্খিত মানে পৌঁছাতে পারছে না। “প্রত্যেক কর্মকর্তা যদি দায়িত্বশীলভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন তাহলে, বেনাপোলকে আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করা সম্ভব।
সভায় তিনি আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের অভ্যন্তরে যাত্রীসেবা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি, সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীরা টার্মিনালের বাইরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করছেন। টার্মিনাল নির্মাণ ও সেবার জন্য যাত্রীপ্রতি ৬০ টাকা নেয়া হলেও কাক্সিক্ষত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্টযাত্রীরা দূরদূরান্ত থেকে এসে টার্মিনালের বাইরে ঝড়-বৃষ্টি ও রোদ উপেক্ষা করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভারতে যাতায়াত করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বারবার প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কার্যকর উদ্যোগ ছিল না বন্দর কর্তৃপক্ষের।
যাত্রীসেবার নামে টার্মিনাল নির্মাণ ও বিভিন্ন সেবার বিপরীতে প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ৬০ টাকা নেয়া হলেও বাস্তবে টার্মিনাল ভবনের একটি অংশ কাস্টমসের স্ক্যানিং কার্যক্রমে এবং সামগ্রীক অংশ বন্দরের প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যাত্রীদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তবে সম্প্রতি টার্মিনালের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার কিছু অংশে বসার ব্যবস্থা করার দৃশ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বন্দর পরিচালকের এ উদ্যোগ কতদিন স্থায়ী হবে এবং কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অংশীজনেরা।
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের যাতায়াত সহজ হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পাসপোর্টযাত্রী এ পথ ব্যবহার করেন। বেনাপোল বাজার থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা পরিবহন থেকে নামার পর কিছু অসাধু ব্যক্তি সেবার নামে তাদের পিছু নেয়।
প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক যাত্রী এসব প্রতারকদের প্রলোভনে পড়ে তাদের নির্ধারিত স্থানে আশ্রয় নেন। পরে কৌশলে অসাধু চক্র সেবার নামে যাত্রীদের প্রলোভনে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা যাত্রীরা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে চরম মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন-এমনকি স্ট্রোকে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে অনীহা দেখান। আবার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হলেও অভিযুক্তরা দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিনের এ সমস্যাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন এ মতবিনিময় সভায় উঠে আসে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)