নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় যশোরে পালিত হয়েছে জাতীয় লিগ্যাল এইড দিবস। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য র্যালি। কবুতর ও বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে র্যালিটি উদ্বোধন করেন যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং লিগ্যাল এইড কমিটি যশোরের চেয়ারম্যান মাহমুদা খাতুন।
র্যালিটি শহরের উকিল বার মোড় ও দড়াটানা হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিচারক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ নিশাত সুলতানা জানিয়েছেন, গত এক বছরে যশোরে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে ৯শ’১৩ জনকে আইনগত সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২শ’২০ জনকে আইনগত পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। একই সময়ে আদালতে মামলা দায়ের না করে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে ৩৪৮টি বিরোধ মীমাংসা করেছে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি।
লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা জানান, গত এক বছরে জেলা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার ফলে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৩শ’ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ২শ’৪৮টি উঠান বৈঠক, প্রচারণা সভা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
গত বছরে কর্মদক্ষতায় শ্রেষ্ঠ প্যানেল আইনজীবী নির্বাচিত হয়েছেন পুরুষ ক্যাটাগরিতে হাবিবুর রহমান ও নারী ক্যাটাগরিতে কামরুন নাহার কনা। অনুষ্ঠানে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।
শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং লিগ্যাল এইডের চেয়ারম্যান মাহমুদা খাতুনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ড. আতোয়ার রহমান, স্পেশাল জেলা জজ এস.এম. নূরুল ইসলাম, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি দেবাশীষ দাস, কাজী ফরিদুল ইসলাম, ব্লাস্ট যশোরের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোস্তফা হুমায়ন কবির, বিচারপ্রার্থী সেলিনা আক্তার তুলি ও জুলাই শহিদের মা রওশনারা বেগম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিভিল জজ চয়ন বালা ও সিভিল জজ বৈশাখী রানী কর্মকার।
সভায় বক্তারা বলেন- সাধারণ ও দুস্থ মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে এখন প্রান্তিক মানুষ বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও মামলা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন, যা দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বক্তারা আরও বলেন, আইনি বিরোধ আদালতে না নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়।