নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে বইছে মাতম। তার করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছে না পরিবার। হত্যাকারীর কঠোর শাস্তি ও বিচার চান তারা। মরদেহ পাওয়া না গেলেও তার পরিবার বলছে, ‘বৃষ্টিও সম্ভবত বেঁচে নেই’ বলে মার্কিন পুলিশ তাদের জানিয়েছে।’ বৃষ্টির ভাই জাহিদ প্রান্ত বলেন, পুলিশ বলেছে তার বোন বেঁচে নেই। তার লাশ নাও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। টুকরা টুকরা করা হতে পারে লাশ। বৃষ্টির লাশ উদ্ধারে তারা তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে পুলিশ। বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই- এটা নিশ্চিত হয়েছি। তার মরদেহ উদ্ধার করে দেশে আনার দাবি জানাই এবং দোষীদের শাস্তি চাই।’ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায়। তার বাবার নাম জহির উদ্দিন আকন ওরফে দিল মোহাম্মদ। জহির উদ্দিন দুই যুগের বেশি সময় ধরে রাজধানী ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বরে পরিবার নিয়ে থাকেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। বৃষ্টির পরিবারের সূত্র জানায়, ঢাকার মিরপুরের নাহার একাডেমি হাইস্কুল থেকে ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ প্লাস) নিয়ে এসএসসি পাস করেন নাহিদা সুলতানা। পরে শহীদ বীরউত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকেও জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ প্লাস) নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। তবে স্নাতকোত্তর শেষ করার আগেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ফুল স্কলারশিপে পিএইচডি করার সুযোগ পান। ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেন নাহিদা।