নিজস্ব প্রতিবেদক : ছাত্রদল প্রত্যেকটা ক্যাম্পাসে পায়ে পাড়া দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর বিডিহল মিলনায়তনে ছাত্র শিবিরের কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘ছাত্রদল কাদের উপর পেশি শক্তি দেখাও, তোমরা যখন ছাত্রলীগের কাছে মার খাইতা তখন সেই মারগুলো কারা ঠেকিয়েছে। তোমরা সিন্নি খাইলা মোল্লাদের উছিলায়, সেই মোল্লাদের এখন ভুলে যাও। আমরা ধৈর্য ধারণ করছি, কিন্তু দুর্বল ভেবো না। তোমরা সাবধান হয়ে যাও। তিনি ক্রিকেটের উপমা টেনে বলেন, জায়গায় দাঁড়ায় বল করলে বলে জোর হয় না। বলে জোর আনতে রানআপ নিতে পিছে যেতে হয়। এর মধ্যে তোমরা শুধরে না গেলে ছাত্রশিবির পেস বল করবে। তখন তোমরা তোমাদের অস্তিত্ব ছাত্রলীগের মতোই হবে।’
জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে ছাত্রদলকে দিয়ে বিএনপির পরিকল্পিত এই হামলা হচ্ছে অভিযোগ করে শিবিরের কেন্দ্রীয় এই সভাপতি বলেন, ‘ছাত্রদলের এই হামলা বিএনপির ইঙ্গিতেই হচ্ছে। দেশের দায়িত্ব নিয়ে উপরে উপরে দেখাচ্ছে খুব ফিটফাট আছি। অর্থনীতির অবস্থা তলে তলে বেহাল। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল করছে। সেটা দেশের জনগণ বোঝে। গণভোটের রায়কে তোমরা মানো না; সেই দিকে থেকেও দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চাও। তোমরা গুম অধ্যাদেশ বাতিল করতে করেছে। তোমাদের মতো বিভিন্ন অধ্যাদেশ তৈরি করেছো। তোমাদের অপকর্ম ঢাকতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছো। এই পথেই হেঁটেছিলো আওয়ামী লীগ, ফলে তাদের দেশ থেকে পালাতে হয়েছে। তোমাদেরও দেশ থেকে পালাতে হবে; এখন সেই সময়ের অপেক্ষায় দেশবাসী। তিনি দাবি করেন যে, ছাত্রশিবির ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জেতার পর ক্যাম্পাসে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দেয়নি এবং মাদক ও গেস্টরুম সংস্কৃতি নির্মূল করেছে। ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সিট দেওয়া নিয়ে সমালোচনা করেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিশেষ বিবেচনায় হলে সিট পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছাত্রশিবির যশোর জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি এম মিনারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মাদরাসা সম্পাদক হাফেজ ইসমাইল হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর, সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।